‘ছোটদের ভুল ক্ষমা করা উচিত!’ খোদ মোদীর উদার বার্তার পরেই আইনি ঝামেলা থেকে বড় স্বস্তি পেল কিশোরী?

সিজেপি-র (CJP) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে যে আইনি ঝড় উঠেছিল, তাতে এবার এক মানবিক ও অপ্রত্যাশিত মোড় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী খোদ অভিযুক্ত নাবালিকাকে ক্ষমা করে দেওয়ায় মামলাটি এবার প্রত্যাহার করে নেওয়ার পথে হাঁটছেন খোদ অভিযোগকারী। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী স্মৃতি সিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাবালিকার প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদার আহ্বানের পর তিনি আর এই আইনি লড়াইটি এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক নন।
গাজিয়াবাদের বাসিন্দা আইনজীবী স্মৃতির অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনায় মোট আটজন তরুণীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছিল। যার মধ্যে অন্যতম ছিল নয়ডার এক নাবালিকা। গত ২৯ জুলাই নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের নির্দিষ্ট স্থান দিল্লি হওয়ায় সেই মামলাটি নিয়মানুযায়ী দিল্লি পুলিশের হাতে স্থানান্তরিত করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) এবং ৩৫৬(১) ধারার অধীনে ইচ্ছাকৃত অপমান, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো বক্তব্য এবং মানহানির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তবে এই পুরো ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বিশেষ বার্তায় দেশের তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার উদার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, অশ্রাব্য গালিগালাজ বা ব্যক্তিগত আক্রমণে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না; বরং অল্প বয়সে ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। বিভ্রান্ত হয়ে পথভ্রষ্টদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং সবাইকে একসঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভব বার্তার পরেই নয়ডার অভিযুক্ত নাবালিকা-সহ অন্য অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে।
প্রধানমন্ত্রীর এমন উদার মানসিকতার কথা মাথায় রেখেই অভিযোগকারী আইনজীবী সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং অভিযুক্তকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তখন ব্যক্তিগত বা আইনি স্তরে এই মামলাগুলি আর টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। ইতিমধ্যেই তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লি পুলিশ এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই নয়ডার সেক্টর ১৬৮-র সংশ্লিষ্ট আবাসনে ওই নাবালিকা ও তার পরিবারকে আর দেখা যাচ্ছে না। আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মচারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপত্তিকর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই পরিবারটি অত্যন্ত গোপনে অন্যত্র চলে গেছে এবং জনসমক্ষে আসা পুরোপুরি এড়িয়ে চলছে। দিল্লি ও নয়ডা পুলিশের একাধিক চৌকস দল ওই আবাসনে গেলেও বর্তমানে পরিবারটি কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে অতীতে পুলিশি হয়রানির মতো কিছু অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তবে নয়ডা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে তাদের কাছে এই সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়ার দিনই আইনানুগভাবে জিরো এফআইআর নথিভুক্ত করে তা দিল্লি পুলিশের হাতে সঁপে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনুমান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই পরিবারটি বর্তমানে হরিয়ানার ফরিদাবাদে আশ্রয় নিয়েছে।
নাবালিকার মা এর আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন যে, রাজনৈতিক বিক্ষোভের ভিড়ে অন্য কারোর প্ররোচনাতেই তাঁর মেয়ে ওই আপত্তিকর মন্তব্য করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমা করে দেওয়ায় তিনি যেমন গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তেমনই অপ্রাপ্তবয়স্কদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার জোরালো দাবি তুলেছেন। সবমিলিয়ে, এই আইনি লড়াইয়ের ইতি টানার ঘোষণা রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।