ছেঁড়া ত্রিপলের ঘরে অভাবী পরিবার! বাঁকুড়ার এই গ্রামে শেষকৃত্য থেকে মেয়ের পড়াশোনার ভার, মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ

মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে জণ্ডিস রোগে অকাল মৃত্যু ঘটল বাঁকুড়ার খাতড়ার কাশীপুরের এক ব্যক্তির। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তিকে হারিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে স্ত্রী ও দুই নাবালক সন্তানের। ছেলে চতুর্থ শ্রেণীতে এবং মেয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পাঠরত। অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ছিল যে, অর্থাভাবে বাবার দেহ দাহ করার সামর্থ্যও ছিল না পরিবারের। দুই নিষ্পাপ সন্তানের মনে তখন একটাই প্রশ্ন: বাবাকে শেষ বিদায় জানাবে কীভাবে?
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে পাশে এসে দাঁড়ান গ্রামবাসীরা। স্থানীয় শিক্ষক তথা সমাজকর্মী রাধাকান্ত মুদির সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় শেষকৃত্যের কাজ। এরপর কীভাবে সংসার চলবে, সেই প্রশ্ন যখন ঘুরপাক খাচ্ছে, তখনই ত্রাতার ভূমিকায় এগিয়ে আসেন শান্তনু সিংহ নামে এক ব্যক্তি। তিনি শুধু নগদ অর্থ সাহায্যই করেননি, পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের জন্য ১২০ জন গ্রামবাসীকে খাওয়ানোর রান্নার সামগ্রীও তুলে দেন।
তবে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপটি ছিল ভবিষ্যতের জন্য। শান্তনু সিংহ দুই নাবালকের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তুলে নেন। বিশেষত, মেধাবী মেয়েটির পড়াশোনার লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যতদিন সে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। সমাজকর্মী রাধাকান্ত মুদি আগেই মেয়েটিকে হোস্টেলে রেখে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন, কিন্তু খরচ যোগানো কঠিন হচ্ছিল। শান্তনু সিংহ বলেন, “মেয়েটি অন্তত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠুক, এটাই কামনা।” এই পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো ছেঁড়া ত্রিপলে মোড়া মাটির দেওয়ালের কুঁড়েঘর। এমন চরম দারিদ্র্যের মাঝেও গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং এক ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী সাহায্য সমাজে মানবতা বেঁচে থাকার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইল।