ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে খোদ খুনি ও ধর্ষকদের ভয়ঙ্কর অভিসন্ধি! দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি রাজধানীর বুকে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক ছাত্র আন্দোলন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বাধীন ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিড়ের আড়ালে মিশে ছিল সুসংগঠিত ও দুর্ধর্ষ অপরাধীরা। পুলিশের অতি গোপনীয় ও উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির সুবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম এবং অপরাধের ডেটাবেস মেলানোর কাজ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ ওই সমাবেশে ক্রিমিনাল রেকর্ড রয়েছে এমন প্রায় ২,৯০০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে। শিক্ষার্থীদের একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন বলে যা প্রচার করা হয়েছিল, সেখানে এই বিপুল সংখ্যক দাগী আসামির উপস্থিতি দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থাকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে।

প্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহারে অপরাধীদের শনাক্তকরণ
তদন্তে জানা গেছে, দিল্লি পুলিশ এই সমাবেশে নিখুঁত নজরদারি চালাতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিল। এর মধ্যে প্রধানত ব্যবহৃত হয় ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম (FRS) ভ্যান, বিশেষ ক্রাইম-কুণ্ডলী ডেটাবেস ম্যাচিং এবং বিদ্যমান ডসিয়ার রেকর্ড ভেরিফিকেশন পদ্ধতি। এই সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রাইম-কুণ্ডলী রেকর্ডে ২,৪০২টি এবং ডসিয়ার ভেরিফিকেশনে ৪৭১টি পজিটিভ মিল পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, সেই সমাবেশে অপরাধমূলক ও দুষ্কৃতী ইতিহাস রয়েছে এমন মোট ২,৮৭৩ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যক্তিরা কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল বা এলাকার নন, বরং আউটার দিল্লি, উত্তর-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং রেলওয়ে জেলা সহ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ওই সমাবেশে এসে জড়ো হয়েছিলেন।

খুনি, ডেমোসিটি ও যৌন হেনস্থাকারীদের ভয়ঙ্কর উপস্থিতি
চিহ্নিত হওয়া ২,৮৭৩ জন ব্যক্তির তালিকাটি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের রীতিমতো আতঙ্কিত করে তুলেছে। এর মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর এবং জঘন্য অপরাধের অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই ভিড়ের মধ্যে ১০১ জন সরাসরি খুনের মামলার আসামি এবং ৬২ জন খুনের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে পুলিশের খাতায় নাম রয়েছে। এছাড়া ২৮৪ জন ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অপরাধে এবং ১৩৫ জন পকেটমারি বা সাধারণ ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত। তবে তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেছে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্ত দুষ্কৃতীদের সরব উপস্থিতি। এই তালিকায় ৬১ জন ধর্ষণ মামলার আসামি, ২৫ জন শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং ৬ জন পকসো (POCSO) আইনের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীসহ মোট ৯২ জন গুরুতর অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২২৯ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন (Arms Act) এবং ৬৭ জনের বিরুদ্ধে এনডিপিএস (NDPS) বা মাদক আইনে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

একাধিক অপরাধে সিদ্ধহস্ত দুষ্কৃতীদের ছক
দিল্লি পুলিশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিবেদনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে, তা হলো এদের মধ্যে বহু দুষ্কৃতী কেবল একটি নয়, বরং একাধিক অপরাধের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উদাহরণস্বরূপ, চিহ্নিত হওয়া ৪২ জন খুন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটিরও বেশি গুরুতর মামলা রয়েছে এবং এদের মধ্যে ১২ জনের নামে অন্তত ১০টি করে অপরাধমূলক মামলা রেকর্ড করা আছে। এছাড়া ১৫৫ জন ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আসামি বারবার অপরাধের মতো বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে ৩১ জনের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০টিরও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। পুলিশের মতে, এই ধরনের পোড়খাওয়া ও অভিজ্ঞ অপরাধীরা প্রায়ই যেকোনো বড় জনসমাগম বা আন্দোলনকে তাদের অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঢাকবার আদর্শ আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে। ভিড়ের মধ্যে অস্ত্র এবং মাদক মামলার আসামিরা উপস্থিত থাকায় যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের চাদরে মুড়ে রাজধানীতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।