আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিছকই একটি বিমানের ধ্বংসাবশেষ নয়; এটি ভেঙে দিয়েছে অসংখ্য স্বপ্ন আর কেড়ে নিয়েছে অসংখ্য হাসিমুখ। তেমনই এক হৃদয়বিদারক গল্প রাজস্থানের উদয়পুরের ডক্টর প্রতীক যোশী এবং তাঁর পরিবারের। লন্ডনগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তোলা হাসিমুখের গ্রুপফিতে ঝলমল করছিল তাদের নতুন জীবনের স্বপ্ন, কিন্তু এক মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন চুরমার হয়ে পরিণত হলো নিদারুণ বাস্তবতায়।
লন্ডনের স্বপ্ন, মৃত্যুর আলিঙ্গন: এক সুখী পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতি
ডক্টর প্রতীক যোশী, যিনি রাজস্থানের উদয়পুরের প্যাসিফিক হাসপাতালের একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছিলেন, বছর ছয়েক আগে সেখানকার কাজ ছেড়ে লন্ডনে গিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন। তাঁর স্ত্রী কোমি ব্যাসও ছিলেন চিকিৎসক। এবার তাঁর স্বপ্ন ছিল স্ত্রী কোমি এবং তাদের তিন সন্তান—পাঁচ বছরের দুই যমজ ছেলে নকুল ও প্রদ্যুত এবং আট বছরের মেয়ে মিরায়াকে লন্ডনে নিয়ে গিয়ে একটি সুখী গৃহকোণ গড়ে তোলা।
সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই কোমি জয়পুরের চাকরিটা ছাড়েন এবং বৃহস্পতিবার সপরিবারে এয়ার ইন্ডিয়ার অভিশপ্ত ফ্লাইটে রওনা দেন। বিমানের মধ্যে ফ্যামিলির গ্রুপফিতে ঝলমল করছিল তাদের হাসিখুশি মুখগুলো, যা তাদের আত্মীয়দের ফোনে এখনও জ্বলজ্বল করছে। তারা হয়তো ভাবতেও পারেননি, কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি তীব্র বিস্ফোরণের শব্দে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। তাদের লন্ডন পাড়ি দেওয়ার আনন্দযাত্রা পরিণত হলো এক অন্তহীন ট্র্যাজেডিতে।
রাজস্থানের ১১টি স্বপ্নভঙ্গ: ফিরে না আসার বেদনা
রাজস্থানের মোট ১১ জন ছিলেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত এই ফ্লাইটে। প্রতীকের বাবা একজন বিখ্যাত রেডিওলজিস্ট এবং কোমির বাবা পূর্ত দপ্তরের আধিকারিক। সম্ভ্রান্ত এই দুটি পরিবার বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে, চোখের পলকে কীভাবে তাদের সব স্বপ্ন ছারখার হয়ে গেল। হাসিমুখের ছবিগুলো এখন শুধুই অতীতের এক বেদনাদায়ক স্মৃতি, আর ছবির মানুষগুলো কি আর ঘরে ফিরবেন কোনো দিন?
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও বুঝিয়ে দিল, জীবনের অনিশ্চয়তা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এক সুখী পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ এবং প্রিয়জন হারানোর এই অসীম বেদনা গোটা দেশকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। এই বিপর্যয় শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি অসংখ্য ভেঙে যাওয়া পরিবারের আর্তনাদ, যা আমাদের সবার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।