দক্ষিণ কলকাতার বেহালার তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আলিপুর আদালত চত্বর। আজ ধৃত কাউন্সিলরকে যখন পুলিশ আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে আসে, তখন তার ওপর ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের কর্মীদের ক্ষোভ। পুলিশি ঘেরাটোপের মাঝেই ধৃত নেতার দিকে লক্ষ্য করে চলে জুতো ও ডিমের বৃষ্টি। তার দিকে আঙ্গুল তুলে ‘চোর চোর’ স্লোগানে ফেটে পড়ে বিজেপি সমর্থকরা, যার জেরে আদালত চত্বরের পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
গত কয়েকদিন ধরেই বেহালার এই কাউন্সিলরকে ঘিরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছিল। আজ সকালে ঠাকুরপুকুর থানা এলাকা থেকে তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আলিপুর আদালতের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। থানা থেকে বেরোনোর সময় থেকেই স্থানীয় মানুষ এবং বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। আলিপুর আদালত চত্বরে পৌঁছামাত্র সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পুলিশ তাকে নিয়ে যখন মূল গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিল, তখনই বিজেপি কর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তেই পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও জনরোষের তীব্রতা ছিল দেখার মতো। এক শ্রেণির মানুষ কাউন্সিলরের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন, আর অন্যদিক থেকে উড়ে আসে জুতো। যদিও পুলিশ তাকে দ্রুত আদালতের ভেতরে নিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের শারীরিক আক্রমণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঘটনায় রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় খোদ পুলিশ অফিসারদেরও। ঘটনার জেরে আদালত সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ বিচারপ্রার্থীরাও বেশ আতঙ্কের মুখে পড়েন।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, বেহালা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং জমি জবরদখলের পেছনেও তার মদত ছিল বলে অভিযোগ। এতদিন দলের ছত্রছায়ায় তিনি বুক ফুলিয়ে চললেও, আজকের ঘটনা প্রমাণ করে দিল সাধারণ মানুষের মনে তার প্রতি কতটা ঘৃণা জমে আছে। যদিও ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা শাসকদলের স্থানীয় স্তরে যে বড় ধাক্কা, তা রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট।
নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আপাতত আলিপুর আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আদালত চত্বরের আশপাশের সব কটি গেটে পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। ধৃত কাউন্সিলরের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সকলের। আদালতের চত্বর থেকে বের হওয়ার সময় যাতে আবার কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ র্যাফ (RAF) বাহিনীকেও। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শাসকদলের নেতার ওপর এহেন জনরোষ রাজ্য রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





