চোখের সামনে জ্বলছে গাড়ি! অপহরণের চেষ্টা করতেই চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ তরুণীর, শিউরে ওঠা ঘটনা

কর্নাটকের তুমকুরু জেলার ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে শনিবারের এক ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ব্যস্ত হাইওয়ের উপরে একটি চলন্ত ক্যাবে আচমকা বিকট বিস্ফোরণ এবং তার পরেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা গাড়িটি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এই ঘটনায় গাড়ির পেছনের সিটে থাকা নগেন্দ্র (৩০) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্ত যত এগোল, ততই প্রকাশ্যে এল সম্পর্কের এক অন্ধকার ও ভয়ঙ্কর দিক।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত নগেন্দ্র পেশায় বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালের ওটি টেকনিশিয়ান। এক যুবতীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা সম্প্রতি ভেঙে যায়। শনিবার নগেন্দ্র ওই যুবতীর বাড়িতে গিয়ে জোর করে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে এবং একটি ভাড়া করা ক্যাবে ওঠায়। ঘটনার খবর পেয়ে ওই যুবতীর পরিবার তড়িঘড়ি পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
পুলিশি তদন্ত ও ক্যাব চালকের বয়ান থেকে জানা গেছে, গাড়িটি হাইওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় নগেন্দ্র যুবতীকে হুমকি দিতে থাকে যে সে তাঁকে খুন করে নিজেও আত্মঘাতী হবে। এমনকী তার পকেট থেকে একটি ছুরিও বের করে সে। এই পরিস্থিতিতে চালক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত ব্রেক কষেন এবং পেছনের দরজাটি খুলে দেন। চলন্ত গাড়ি থেকে ওই যুবতী তৎক্ষণাৎ লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান।
এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাড়ির ভেতরে এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ধরে যাওয়ায় পেছনের সিটে বসে থাকা নগেন্দ্র গাড়ির ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নগেন্দ্রর কাছে প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত ছিল। তাঁর মূল পরিকল্পনা ছিল প্রাক্তন প্রেমিকাকে নিয়ে একই সঙ্গে আত্মঘাতী হওয়া। যুবতী গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় তিনি বেঁচে গেলেও, নগেন্দ্রর এই নারকীয় পরিকল্পনায় পুরো হাইওয়ে জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ঘটনার নেপথ্যে থাকা বিস্ফোরক ও তার উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ওই যুবকের কাছে কোন ধরণের বিস্ফোরক ছিল, তা ফরেনসিক পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। সম্পর্ক ভাঙার ক্ষোভ থেকে এই ধরনের চরম পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ওই যুবতী এবং আহত ক্যাব চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।