মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে মার্কিন বায়ুসেনার ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ হওয়ার দম্ভ কার্যত ধূলিসাৎ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মাটিতে খসে পড়ল আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। শুধু তাই নয়, ইরানের মাটিতে এখন নিখোঁজ এক মার্কিন পাইলট, যাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে তেহরান। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন এক চরম অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে।
আকাশপথে ২৪ ঘণ্টার দুঃস্বপ্ন:
ইরানের আকাশসীমায় মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল। বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজন উদ্ধার হলেও অন্যজন নিখোঁজ। অন্যদিকে, কুয়েতের আকাশে আক্রান্ত হয়ে ভেঙে পড়েছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান। এমনকি নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে যাওয়া ‘ব্ল্যাকহক’ কপ্টারটিও ইরানি হামলার মুখে পড়ে কোনোমতে প্রাণ হাতে নিয়ে ফিরেছে। পাশাপাশি একটি এফ-১৬ এবং জ্বালানি সরবরাহকারী কেসি-১৩৫ বিমান জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হওয়ায় মার্কিন শিবিরের বিপর্যয় স্পষ্ট।
দম্ভ বনাম বাস্তবতা:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘যুদ্ধ’ বলে লঘু করার চেষ্টা করলেও, কয়েকদিন আগের তাঁর দম্ভোক্তি—“ওরা কিচ্ছু করতে পারছে না”—এখন প্রশ্নের মুখে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। তেহরানের হুঙ্কার, এই লড়াই এখন মার্কিন পাইলটদের ‘শিকার’ করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





