দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম! নিজেদের নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করতে বিদেশের মাটি থেকে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ কেনার বা যৌথভাবে তৈরির কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন)। মিত্র দেশ জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এই মেগা ডিল কার্যকর হলে তা হবে মার্কিন সমর ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মোড়।
কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত? পেন্টাগন সূত্রের খবর, মূলত তিনটি প্রধান কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
চীনের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা: বর্তমানে বিশ্বের ১ নম্বর জাহাজ নির্মাণকারী দেশ চীন। যে গতিতে বেইজিং তাদের নৌবহর বাড়াচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ওয়াশিংটনের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সংকট: আমেরিকার নিজস্ব জাহাজ কারখানাগুলোতে শ্রমিকের অভাব, খরচ বৃদ্ধি এবং একের পর এক প্রজেক্টে দেরি হওয়ার ফলে নৌবাহিনীতে জাহাজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
জাপান ও কোরিয়ার দক্ষতা: জাপানের ‘মোগামি ক্লাস’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দেইগু ক্লাস’ ফ্রিগেটগুলো প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত এবং খরচও মার্কিন জাহাজের তুলনায় অনেক কম।
কী হতে চলেছে এই চুক্তিতে? পেন্টাগন ২০২৭ সালের বাজেটে ১.৮৫ বিলিয়ন ডলারের একটি সমীক্ষা (Feasibility Study) প্রস্তাব করেছে। এর লক্ষ্য হলো এশিয়ার এই দুই দেশের নকশা ব্যবহার করে দ্রুত মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেট তৈরি করা। ইতিমদ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা ‘হানওয়া’ আমেরিকার ফিলাডেলফিয়া শিপইয়ার্ড অধিগ্রহণ করেছে, যা এই উদ্যোগের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেক আমেরিকান শিপবিল্ডিং গ্রেট এগেইন: ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে “Make American Shipbuilding Great Again”। এর ফলে মার্কিন প্রযুক্তির সাথে এশীয় দক্ষতা যুক্ত হয়ে তৈরি হবে এক ‘সুপার ফ্লিট’, যা প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের একাধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবে।
আইনি বাধা ও ভবিষ্যৎ: তবে পথটা অত সহজ নয়। মার্কিন আইন অনুযায়ী তাদের যুদ্ধজাহাজ নিজেদের দেশেই তৈরি করতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট যদি বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে ছাড় দেন, তবেই বিদেশের সাহায্য নেওয়া সম্ভব হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লড়াই যখন শ্রেষ্ঠত্বের, তখন নিজের ইগো সরিয়ে এশিয়ার দুই বন্ধু দেশের ওপরই বাজি ধরতে চলেছে হোয়াইট হাউস।





