সীমান্তে সেনা মোতায়েন বা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, এবার নতুন কৌশলে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইছে চিন। ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বিশাল হাইড্রোপাওয়ার বাঁধ গড়ে তুলছে চিন, যার অবস্থান অরুণাচল প্রদেশের একেবারে গা ঘেঁষে। এই বাঁধ আগামী দিনে ‘জলবোমা’তে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমা খাণ্ডু।
এই সপ্তাহে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী খাণ্ডু বলেন, “চিনের সামরিক হুমকিও বড় সমস্যা, তবে আমার মতে জল সংকটই এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিনের এই বাঁধ এক ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত হতে পারে, যা আমাদের অস্তিত্ব ও জীবনের উপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে।”
বলা হচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে চিনের ইয়ারলুং সাংপো এলাকায় যে বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ হলে সেটিই হবে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ১৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচে তৈরি এই বাঁধ থেকে উৎপন্ন হবে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ২০২১ সালে চিন এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে, এবং ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণে সায় দেয় বেজিং।
প্রেমা খাণ্ডু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেহেতু চিন কোনও আন্তর্জাতিক জলচুক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই তাদের বাঁধের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার কোনও বৈধ উপায় ভারতের হাতে নেই। যদি তারা হঠাৎ করে প্রচুর জল ছাড়ে, তাহলে সিয়াং নদীর উপর নির্ভরশীল অরুণাচলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ বন্যায় প্লাবিত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি তারা কোনও আন্তর্জাতিক জলনীতি মেনে চলত, তাহলে তারা বাধ্য থাকত নির্দিষ্ট পরিমাণ জল ছাড়তে। তাতে শুধু অরুণাচলই নয়, অসম এবং বাংলাদেশও প্রতি বছরের বন্যা থেকে বাঁচতে পারত।”
চিনের আগ্রাসী জলনীতির মোকাবিলায় ভারতও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেমা খাণ্ডুর দাবি, ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রকল্পে জল সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকায় চিনের দিক থেকে হঠাৎ জল ছাড়লেও অরুণাচল বন্যার কবলে পড়বে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তে আগ্রাসনের পর এবার জলকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে ভারতকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে চিন। আন্তর্জাতিক জল চুক্তিতে না থাকায় বেজিংকে নিয়ম মানতে বাধ্য করাও কঠিন। এই অবস্থায় শুধু সীমান্ত নয়, ব্রহ্মপুত্র ঘিরেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেই আশঙ্কা।





