চিনের চিন্তা বাড়িয়ে ভারতের পথে ইউএই! ব্রহ্মোস মিসাইল কিনতে মরিয়া আরব দেশ?

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্কের এই সেতুবন্ধন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সামরিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যৌথ সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব (আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) অমিতাভ প্রসাদ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ব্রিগেডিয়ার স্টাফ জামাল ইব্রাহিম মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল মারজুকি। বৈঠকে মূলত প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ বিনিয়োগ, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সরঞ্জামের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। তবে এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশই সামুদ্রিক নজরদারি ও আকাশসীমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে একমত হয়েছে।
গত কয়েক বছরে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সম্পর্ক আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। একে নিছক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং এক মজবুত কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি ও আবুধাবি। এরই মধ্যে বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। একসময় অস্ত্র আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষে থাকা ভারত আজ ব্রহ্মোসের হাত ধরে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ বিশ্বের ১৪টিরও বেশি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পেতে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মোসের এই ব্যাপক চাহিদার নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক তৎপরতা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএই-র মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির লেনদেন কেবল দুই দেশের সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। ব্রহ্মোস মিসাইল যদি ভবিষ্যতে ইউএই-র হাতে পৌঁছায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্র সুরক্ষায় এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
নয়াদিল্লির এই বৈঠক দুই দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পকে আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত সরকার বর্তমানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে, যেখানে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। ইউএই-র মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে এই বোঝাপড়া ভারতকে বিশ্ব অস্ত্র বাজারে এক নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে বড় পদক্ষেপ।