চিনকে বড় উপহার ট্রাম্পের! পাকাপাকিভাবে খুলে দিলেন হরমুজ প্রণালী, বিনিময়ে জিনপিং-এর থেকে কী চাইলেন ডোনাল্ড?

বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জুড়ি মেলা ভার। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার এক বিস্ফোরক ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশেষ করে চিনকে ‘খুশি’ করতে চিরতরে খুলে দিচ্ছেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। তবে রাজনীতির এই দাবার চালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিনা স্বার্থে কিছুই করেননি; বেজিং-এর কাছ থেকে আদায় করে নিয়েছেন এক বড় প্রতিশ্রুতি।

১. চিনের জন্য ট্রাম্পের ‘দরাজ হাত’

ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, “চিন অত্যন্ত খুশি যে আমি পাকাপাকিভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিচ্ছি। আমি এটা তাদের জন্য এবং গোটা বিশ্বের জন্য করছি।” উল্লেখ্য, ইরান সীমান্ত ঘেঁষা এই জলপথটি বিশ্ব তেলের বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন। এটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় চিনের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো প্রবল দুশ্চিন্তায় ছিল।

২. বিনিময়ে কী চাইলেন ডোনাল্ড?

ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ‘উপহার’ তিনি এমনি এমনি দেননি। তাঁর দাবি, চিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ইরানকে আর কোনো অস্ত্র সরবরাহ করবে না। ইরানকে সামরিকভাবে একঘরে করতেই চিনকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। এর পাশাপাশি, ইরান থেকে চিনা জাহাজের তেল আনা-নেওয়ার পথ সুগম করে দিয়ে বেজিংকে নিজের পাশে টানতে চেয়েছেন তিনি।

৩. “প্রেসিডেন্ট শি আমাকে জড়িয়ে ধরবেন”

নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন কয়েক সপ্তাহ পর বেজিং সফরে যাব, তখন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আমাকে একটি বড় এবং উষ্ণ আলিঙ্গন দেবেন। আমরা খুব স্মার্টলি এবং চমৎকারভাবে একসঙ্গে কাজ করছি। যুদ্ধ করার চেয়ে এটা কি অনেক ভালো নয়?” তবে একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিতে ভোলেননি ট্রাম্প; জানিয়েছেন যে আমেরিকা যুদ্ধ করতেও পিছপা হবে না।

৪. ভারতের ওপর প্রভাব ও মোদীর সঙ্গে আলাপ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই ঘোষণার দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ভারতও এই জলপথটি খোলা রাখার পক্ষেই সওয়াল করে আসছিল, কারণ ভারতের তেল আমদানির একটি বড় অংশ এই পথেই আসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy