চিকিৎসার নামে বড় ফাঁকি! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কেজিএমইউ থেকে চম্পট কুখ্যাত কয়েদি

উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (কেজিএমইউ)-এর মতো সুরক্ষিত হাসপাতাল থেকে পুলিশের কড়া নজরদারি এড়িয়ে চম্পট দিল ধর্ষণ ও প্রতারণায় অভিযুক্ত এক বিচারাধীন কয়েদি। পলাতক ওই বন্দীর নাম হায়দার আলি, যার বাড়ি ওড়িশার বালেশ্বর জেলায়। এই ঘটনার পর থেকেই লখনউ পুলিশ ও কারা প্রশাসনের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত হায়দার আলি গুরুতর অপরাধের দায়ে জেলবন্দি ছিল। সম্প্রতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সে কারাগারের হাসপাতালে ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রথমে বলরামপুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (কেজিএমইউ) পাঠানো হয়। নিরাপত্তার খাতিরে তার পাহারায় নিযুক্ত ছিলেন হেড কনস্টেবল দীনেশ কুমার এবং জেল গার্ড ধর্মেন্দ্র সিং। কিন্তু শুক্রবার সকালে নিয়মিত পরিদর্শনের সময় কয়েদির বেড খালি দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হয় কর্তব্যরত কর্মীদের। হাসপাতালের অলিগলি এবং আশেপাশের এলাকায় তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার কোনো হদিশ মেলেনি।
এই চাঞ্চল্যকর খবর দ্রুত পৌঁছায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কানে। পুলিশি হেফাজতে থাকার সময়ে একজন বিচারাধীন কয়েদি কীভাবে এমন দুঃসাহসিক কায়দায় পালিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি এবং দায়সারা নজরদারিকেই এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কর্তব্যে চরম অবহেলার অভিযোগে ওই দুই নিরাপত্তা কর্মীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পলাতক হায়দার আলিকে ধরতে কোমর বেঁধে নেমেছে লখনউ পুলিশ। তল্লাশি অভিযানে নেমেছে একাধিক বিশেষ টিম। স্থানীয় থানার পাশাপাশি ঘটনাটির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছে এলআইইউ (LIU), স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের ওড়িশার বালেশ্বরে অবস্থিত বাড়ি এবং তার পরিচিতদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সমস্ত গোপন আস্তানায় জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। বন্দী একাই পরিকল্পনা করে পালিয়েছে, নাকি এর নেপথ্যে কোনো বড় চক্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, অপরাধী যতই ধূর্ত হোক, খুব দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এই ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তিতে যে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।