স্নায়বিক বা পেশী সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য এক দারুণ খবর। এবার শরীরকে পুরোনো ছন্দে ফেরাতে ফিজিক্যাল মেডিসিন রিহ্যাবিলিটেশন (পিএমআর) কর্মসূচিতেও যুক্ত হতে চলেছে অত্যাধুনিক রোবোটিক প্রযুক্তি। পূর্ব ভারতে এই প্রথমবার পার্ক সার্কাসের মেডিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার (এমআরসি)-এর উদ্যোগে রোবোটিক রিহ্যাব পরিষেবা চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে। এমআরসি-র কর্ণধার এবং পিএমআর-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মৌলীমাধব ঘটক এই উদ্যোগকে চিকিৎসা জগতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।
রোবোটের ব্যবহার: শুধু সার্জারি নয়, রিহ্যাবেও নতুন দিগন্ত
চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোবোটের ব্যবহার নতুন না হলেও, এতদিন মূলত বিভিন্ন ধরনের সার্জারি এবং কিছু ডায়াগনস্টিক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এমআরসি-র এই নতুন পরিষেবা স্ট্রোক-পরবর্তী রিহ্যাবিলিটেশন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকরী করে তুলবে। পার্কিনসন্স রোগ বা ভারসাম্যের অভাবের মতো জটিল স্নায়বিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও রোবোটিক থেরাপি কার্যকরী ভূমিকা নেবে। এমনকি, মানসিক অবসাদ কাটিয়ে ওঠার পরে সৃষ্ট বিভিন্ন স্নায়বিক ও পেশি সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসাও এই রোবোটিক রিহ্যাবের মাধ্যমে সম্ভব হবে।
মৌলীমাধব ঘটক জানান, এমআরসি-র নতুন এই ইউনিটে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, রোবোট অ্যাসিস্টেড নিউরো-মাসকুলার রি-এডুকেশন, মনিটর ব্যালান্স ট্রেনিং এবং বায়ো-ফিডব্যাক রিপ্রোগ্রামিং-এর মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
মস্তিষ্কের কোষে ইতিবাচক প্রভাব ও ভিডিও গেম থেরাপি
এমআরসি-র বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগুলির সম্মিলিত ইতিবাচক প্রভাব সরাসরি মস্তিষ্কের কোষগুলিতে পড়ে। এর ফলে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশীর ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম করার ক্ষমতার উন্নতি এবং ভারসাম্য ফিরে পাওয়া সহজেই সম্ভব হয়। এই অত্যাধুনিক রোবোটিক থেরাপিতে ভিডিও গেমের মাধ্যমে রোগীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য (টার্গেট) সেট করে দেওয়া হয় এবং রোগীকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে উৎসাহিত করা হয়। প্রথাগত রিহ্যাবে যা এতদিন সম্ভব ছিল না, তা এখন এই প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই করা যাচ্ছে। সম্প্রতি অন্তত ১০ জন রোগী এই নতুন পদ্ধতিতে উপকৃতও হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ রমেশ ভট্টাচার্য, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সঞ্চিতা ঘটক এবং পিএমআর বিশেষজ্ঞ মনমোহন বিশ্বাস, সাগ্নিক মুখোপাধ্যায় ও মৌসুমী সেন সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এই নতুন সংযোজন কলকাতার চিকিৎসাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল এবং রোগীদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।