চা বিক্রেতা থেকে সাইবার জালিয়াতির কিংপিন! গোপালগঞ্জে কোটি টাকা নগদ, সোনা ও রূপা উদ্ধার, ধৃত ২ ভাই

এক সময় চা বিক্রি করে সংসার চলত, সেই ব্যক্তিই এখন দেশের এক বিশাল সাইবার প্রতারণা চক্রের মূল হোতা! বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার আমেঠি খুর্দ গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করেছে। এই ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী।

কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালায় এবং দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তারা হলো দুই ভাই— অভিষেক কুমার ও আদিত্য কুমার। গোপালগঞ্জ সাইবার ডিএসপি অবন্তিকা দিলীপ কুমার জানান, অভিযান থেকে উদ্ধার হয়েছে:

১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা নগদ

৩৪৪ গ্রাম সোনা, ১.৭৫ কেজি রুপো

৮৫টি এটিএম কার্ড, ৭৫টি ব্যাঙ্ক পাসবুক, ২৮টি চেকবই

দুটি ল্যাপটপ, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি বিলাসবহুল গাড়ি

দুবাই থেকে চলত চক্রের মূল কাজ

তদন্তে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্ত অভিষেক কুমার আগে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাতেন। পরে তিনি সাইবার জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং সেখান থেকে দুবাই চলে যান। সেখান থেকেই তিনি চক্রটি পরিচালনা করতেন বলে সন্দেহ পুলিশের। তাঁর ভাই আদিত্য ভারতে বসে টাকা লেনদেন এবং লজিস্টিক্সের কাজ সামলাতেন।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই চক্রের জাল কেবল বিহারেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যে এর জাল ছড়িয়ে আছে। উদ্ধার হওয়া বেশিরভাগ ব্যাঙ্ক পাসবুক বেঙ্গালুরুতে ইস্যু করা, যা আন্তঃরাজ্য সংযোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ডিএসপি জানান, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া টাকা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে পরে নগদে রূপান্তর করা হতো।

তদন্তে নামল আয়কর ও এটিএস

এই বিশাল আর্থিক লেনদেনের কারণে ঘটনার তদন্তে এবার আয়কর দফতর ও অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-ও যোগ দিয়েছে। তারা বাজেয়াপ্ত টাকা-পয়সার উৎস ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী অর্থের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। পুলিশ বর্তমানে দুই অভিযুক্তকে জেরা করে ল্যাপটপ ও মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণ করছে, যাতে চক্রের আরও সদস্যদের খোঁজ পাওয়া যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy