আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এখন আর ভবিষ্যতের কল্পনা নয়, বরং বর্তমানের কঠিন বাস্তবতা। এআই-এর দাপটে বিশ্বজুড়ে চাকরির বাজার কীভাবে ওলটপালট হতে পারে, তা নিয়ে এবার বিস্ফোরক দাবি করলেন ওপেন এআই-এর কর্ণধার স্যাম অল্টম্যান। তাঁর মতে, এআই এখন কেবল মানুষের সহকারী নয়, বরং এটি কম্পিউটিং এবং কাজের ধরনকে আমূল বদলে দিচ্ছে।
“এজিআই-এর আমরা খুব কাছে”: স্যাম অল্টম্যান
এক্সিওসের (Axios) সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অল্টম্যান জানান, পরিবর্তনের গতি তাঁর প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দ্রুত। তিনি বলেন:
“আমরা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (AGI)-এর এত কাছে চলে এসেছি যে এখন আর এর আলাদা কোনও সংজ্ঞার প্রয়োজন নেই। এখন থেকে এআই নিজেই বিজ্ঞানের বড় আবিষ্কার করতে পারবে, এমনকি অর্থনীতির জটিল কাজও অনায়াসে সামলাবে।”
অল্টম্যান আরও মনে করেন, ২০২৫ সালের শুরুতে কোডিংয়ের কাজ যেভাবে হতো, ২০২৬-এর গোড়ায় তার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রিপিটেটিভ বা একঘেয়ে কাজগুলো এখন যন্ত্রই দখল করে নিচ্ছে।
এআই-এর রেডারে থাকা ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা
স্যাম অল্টম্যান নতুন কর্মসংস্থানের আশার কথা শোনালেও, প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা অ্যান্থ্রোপিক (Anthropic) কিন্তু সতর্কবার্তা দিচ্ছে। তাদের দাবি, ১০টি নির্দিষ্ট পেশা ইতিমধ্যেই এআই-এর কারণে প্রবল ঝুঁকির মুখে:
১. কম্পিউটার প্রোগ্রামিং: এআই টুল এখন মানুষের চেয়ে দ্রুত কোড লিখতে পারছে।
২. কাস্টমার সার্ভিস: স্মার্ট চ্যাটবটরা মানুষের জায়গা দখল করছে।
৩. ডেটা এন্ট্রি: একঘেয়ে তথ্যের এন্ট্রির কাজ এখন পুরোটাই অটোমেটেড।
৪. মেডিক্যাল রেকর্ড স্পেশালিস্ট: স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নথিপত্র সাজানোর কাজ এখন এআই-এর হাতে।
৫. মার্কেট রিসার্চ অ্যানালিস্ট: বিপুল পরিমাণ ডেটা অ্যানালিসিসে এআই অনেক বেশি দক্ষ।
৬. মার্কেটিং স্পেশালিস্ট: কন্টেন্ট থেকে স্ট্র্যাটেজি—সবই করছে এআই।
৭. ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট: অর্থনৈতিক ওঠানামার হিসাব কষছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
৮. সফটওয়্যার টেস্টিং: বাগ খোঁজা বা টেস্টিংয়ের জন্য এখন উন্নত অটোমেটেড টুল বর্তমান।
৯. সাইবার সিকিউরিটি: হ্যাকিং রুখতে মানুষের বদলে এআই-এর ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
১০. আইটি সাপোর্ট: প্রাথমিক কারিগরি ত্রুটি সমাধানের কাজ এখন যন্ত্রই করে দিচ্ছে।
আশার আলো কি আছে?
বিপদের মেঘ থাকলেও অল্টম্যানের বিশ্বাস, মানুষের মেধার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে না। পুরনো কাজ গেলেও এআই-এর হাত ধরে তৈরি হবে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের পেশা। তবে যাঁরা নিজেদের দক্ষতাকে সময়ের সঙ্গে আপডেট করবেন না, তাঁদের জন্য আগামী দিনগুলো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।





