মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর এবং একইসঙ্গে ভয়ানক অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকল বিশ্ব। ধনকুবের ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস-এক্সের (SpaceX) উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট স্টারশিপের (Starship) পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সফল হলেও, শেষ মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ঘটল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। এই বিশাল আকারের রকেটটিকে চাঁদ এবং মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। টেক্সাসের স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে নিজের উড্ডয়ন সম্পূর্ণ করে ভারত মহাসাগরে অবতরণের সময় চোখের পলকে সেটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়।
ঘটনার দিন রকেটটি ভারত মহাসাগরের উত্তাল জলরাশি ছুঁতেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে খুশির জোয়ার দেখা দিয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১২তম উড্ডয়ন সফল হওয়ার খবরে স্পেস-এক্স কর্তৃপক্ষ অভিনন্দনও জানিয়েছিল। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। অবতরণের ঠিক পরেই দেখা যায়, রকেটের পিছনের অংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে সেটি একদিকে হেলে পড়ে এবং তীব্র শব্দে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ, যা অনেকটা পরমাণু হামলার সময়কার ছত্রাক আকৃতির আগুনের গোলার কথা মনে করিয়ে দেয়। দাউদাউ করে জ্বলা আগুনে আকাশ ঢাকা পড়ে যায় এবং বিশাল রকেটটি মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
যদিও স্পেস-এক্সের দাবি, এই রকেটটি অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা তাদের লক্ষ্য ছিল না। তাদের পরিকল্পনা ছিল রকেটটিকে পরিকল্পিতভাবে জলে নামানো। তবে উড্ডয়নের শুরু থেকেই একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি সামনে এসেছিল। রকেটটির একটি ইঞ্জিন শুরুতেই বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। আপার স্টেজ থেকে আলাদা হওয়ার সময়ও যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দেয়। এছাড়া মেক্সিকো উপসাগরে বুস্টারটিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামানোর পরিকল্পনা থাকলেও, সেটি অনিয়ন্ত্রিতভাবেই আছড়ে পড়ে। রকেটটি মহাকাশে ২২টি ‘মক’ স্যাটেলাইট স্থাপনের মতো জটিল কার্য সম্পন্ন করলেও, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনরায় প্রবেশের সময় যান্ত্রিক ত্রুটিগুলি প্রকট হয়ে ওঠে।
Splashdown confirmed! Congratulations to the entire SpaceX team on the twelfth flight test of Starship! pic.twitter.com/XXBAtryPpL
— SpaceX (@SpaceX) May 22, 2026
উল্লেখ্য, নাসার (NASA) আর্টেমিস অভিযানের জন্য স্পেস-এক্সের এই মহাকাশযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের মাটিতে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে নাসা। সেই দৌড়ে পিছিয়ে নেই চিন এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন-ও। বিশ্বজুড়ে মহাকাশ অভিযানে এই রেষারেষিকে ভালো চোখে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মহাকাশ অভিযানে অন্ধ প্রতিযোগিতার চেয়ে নভোচরদের নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত গুণমানের দিকে নজর দেওয়া এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই বিস্ফোরণ ফের একবার মহাকাশ গবেষণার ঝুঁকি ও নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।





