চাঁচলের হাসপাতালে রাতে ডিউটিরত মহিলা চিকিৎসককে হেনস্তা, প্রশ্নের মুখে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার নিরাপত্তা

আবারও সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। এবারের ঘটনা মালদহ জেলার চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের মালতিপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। রাতে ডিউটিরত এক মহিলা চিকিৎসককে রোগীর পরিবারের সদস্যদের দ্বারা হেনস্তা এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল রাতে?

হাসপাতালের ওই চিকিৎসক অনুরাধা মৈত্র জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি হাসপাতালের ইমারজেন্সি ডিউটিতে ছিলেন। বেশি রাতে একজন ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি কাঁধের ব্যথা নিয়ে এলে তিনি তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন।

  1. চিকিৎসকের পদক্ষেপ: অনুরাধা মৈত্র রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস জানতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই ব্যক্তির উচ্চ রক্তচাপ (প্রেশার) এবং রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) সমস্যার পাশাপাশি কিডনিরও সমস্যা রয়েছে। প্রেশার ঠিক থাকায় চিকিৎসক রোগীর কাঁধের সমস্যার জন্য ওষুধ দেন।

  2. পরিবারের অন্যায় আবদার: চিকিৎসার আলোচনা চলাকালীন অসুস্থ ব্যক্তির মেয়ে সেখানে এসে উপস্থিত হন। তিনি নিজের ব্যাগ থেকে একটি ইনজেকশন বের করে চিকিৎসককে সেটি রোগীকে দিতে বলেন।

  3. প্রেসক্রিপশন ছাড়া অস্বীকার: চিকিৎসক ইনজেকশনটির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই মহিলা সেটিকে ‘খুব জরুরি’ বলে দাবি করেন এবং বলেন, এর আগে রোগীকে ছ’টি ওই ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসক অনুরাধা মৈত্র প্রেসক্রিপশন দেখাতে বলেন, কিন্তু প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওই ইনজেকশন দিতে তিনি স্পষ্ট ভাবে অস্বীকার করেন।

হেনস্তা ও আইনি পদক্ষেপ:

ইনজেকশন দিতে অস্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গেই রোগীর মেয়েটি চিকিৎসককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং তাঁকে হেনস্তা করা হয়।

  • চিকিৎসকের উদ্বেগ: অনুরাধা মৈত্র প্রশ্ন তোলেন, “আমার রেজিস্ট্রেশনই তো বাতিল হয়ে যাবে (ভুলভাল ইনজেকশন দিলে)। নিরাপত্তার বিষয় তো রয়েছেই। কিন্তু অন্যায় আবদার না-মানায় রোগীর বাড়ির লোক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করবে, এটা মানা যায় না।”

  • তিনি আরও বলেন, যেহেতু ওই রোগীর কিডনির সমস্যা ছিল, সেক্ষেত্রে প্যারাসিটামল একমাত্র নিরাপদ ওষুধ ছিল, তার বাইরে অন্য কিছু দেওয়া সম্ভব ছিল না।

  • লিখিত অভিযোগ: গোটা ঘটনা জানিয়ে বৃহস্পতিবার চিকিৎসক অনুরাধা মৈত্র স্থানীয় চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চাঁচল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও অভিযুক্তদের কোনো সন্ধান না-পাওয়ায় তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এই ঘটনায় চাঁচল জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।