রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল ইডি, অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধির স্বামী রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ মামলায় চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। লন্ডনে বসবাসকারী অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগেই বৃহস্পতিবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে এই চার্জশিট পেশ করা হয়।

চার্জশিটে ইডি-র মূল অভিযোগ:

  • বেনামি সম্পত্তির মালিকানা: ইডি-র অভিযোগ, লন্ডনের ব্রায়ানস্টন স্কোয়ার এবং গ্রোজভেনর হিল কোর্ট— এই দু’টি বাড়ির প্রকৃত মালিক সঞ্জয় ভাণ্ডারী হলেও, এর আর্থিক যোগসূত্র ছিল রবার্ট বঢরার।

  • টাকার লেনদেন: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০০৯ সালে ব্রায়ানস্টন স্কোয়ারের সম্পত্তি ভাণ্ডারী কিনলেও, টাকার লেনদেন হয়েছিল বঢরার মাধ্যমে। তাঁর নির্দেশেই নাকি বাড়িটির সংস্কার করা হয়েছিল।

  • লন্ডনে অবস্থান: অভিযোগ, লন্ডন সফরে রবার্ট বঢরা বহুবার ওই বাড়িতে উঠেছিলেন।

  • ই-মেল প্রমাণ: ইডি দাবি করেছে, ই-মেল আদান-প্রদানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে ১.৯ মিলিয়ন পাউন্ড দামের ব্রায়ানস্টন স্কোয়ার সম্পত্তি কেনা, সংস্কার ও লেনদেন— সবেতেই বঢরা ও তাঁর সহকারী মনোজ অরোরার যোগ ছিল।

মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা:

  • তদন্ত শুরু: ২০১৬ সালে আয়কর দফতরের চিঠি থেকে এই তদন্ত শুরু হয়। পরে ভাণ্ডারীর অফিসে আয়কর হানার সময় মিলে যাওয়া ডিজিটাল ডেটা থেকে রবার্ট বঢরার নাম উঠে আসে।

  • জেরা: চলতি বছরের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের (পিএমএলএ) অধীনে রবার্ট বঢরার জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন এবং তাঁকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জেরা করা হয়েছিল।

  • দ্বিতীয় চার্জশিট: চলতি বছরে গান্ধি পরিবারের জামাইয়ের বিরুদ্ধে এটি ইডি-র দ্বিতীয় চার্জশিট। এর আগে জুলাই মাসে হরিয়ানার শিকোহপুরে একটি জমি চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগে জড়িত আর্থিক তছরুপ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট করা হয়েছিল।

  • ভাণ্ডারীর প্রত্যর্পণ: অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারী ২০১৬ সালে দিল্লিতে আয়কর বিভাগের তল্লাশির পর লন্ডনে পালিয়ে যান। ২০২০ সালে রবার্ট বঢরার বিরুদ্ধে সঞ্জয় ভাণ্ডারীর মাধ্যমে ব্রিটেনে বেনামি সম্পত্তি কেনা ও আয়কর ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে আয়কর বিভাগ তদন্ত শুরু করেছিল। ২০২৩ সালে সঞ্জয় ভাণ্ডারীকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ব্রিটেনের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • পরবর্তী পদক্ষেপ: এই চার্জশিটের পরবর্তী শুনানি ৬ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। রবার্ট বঢরা অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে।