ভারতীয় ঐতিহ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে পবিত্র মনে করা হলেও, অবিশ্বাসের বিষ এই সম্পর্ককে নরকে পরিণত করতে পারে। চেন্নাইতে সম্প্রতি এমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে স্বামী জোর করে স্ত্রীকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে লজে অশ্লীল ছবি তোলেন এবং পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার হুমকি দেন। এই ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী ওই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী স্ত্রী স্বামীকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
দাম্পত্য কলহ থেকে ভয়ঙ্কর হুমকি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চেন্নাইয়ের ভানাগ্রাম এলাকার ২৮ বছর বয়সী এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী নারী তাঁর স্বামীকে নিজের বাড়ির একটি ঘরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। তাঁর অভিযোগ, স্বামী তাঁকে হুমকি দিচ্ছিলেন যে, তাঁর নগ্ন ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেবেন।
জানা গিয়েছে, ওই মহিলা এবং তাঁর অভিযুক্ত স্বামী ২০২৩ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের মাত্র কয়েক মাস পরেই তাঁদের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। স্বামী মদ্যপ অবস্থায় মহিলাকে নিয়মিত মারধর করতেন। পরে যখন অভিযুক্ত জানতে পারে যে তার স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন সে ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং দেখা করার জন্য অনুরোধ করে। এমনকি, আর কখনও মদ্যপান না করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।
লজে গোপন ছবি তোলা ও ব্ল্যাকমেইলিং
ক্ষমা চাওয়ার পর শুরু হয় আসল খেলা। স্বামী তার স্ত্রীকে বাইকে করে তামিলনাড়ুর কুনুরে নিয়ে যায়। দুজনে সেখানকার একটি লজে ওঠেন। সেখানেই অভিযুক্ত স্বামী গোপনে তার স্ত্রীর অশ্লীল ছবি তোলে।
বাড়ি ফিরে আসার পর স্বামী আবারও মহিলাকে মারধর শুরু করে। যখন স্ত্রী পুলিশে অভিযোগ করার হুমকি দেন, তখন স্বামী তার লজে তোলা ছবিগুলো ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
স্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপ ও অভিযুক্তের গ্রেফতার
এরপরই ওই সাহসী মহিলা অভিযুক্ত স্বামীকে বাড়ির একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন এবং নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। ভানাগ্রাম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে আরও তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনা আবারও বিবাহিত সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ, ঘরোয়া হিংসা এবং ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিং-এর মতো গুরুতর সমস্যাগুলিকে সামনে নিয়ে এল। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে নির্যাতিতা নারী ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগোলেন, কিন্তু এই ঘটনা সমাজের গভীরে প্রোথিত হিংসার এক নতুন দিককে তুলে ধরল।





