ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাজার! টানা ৩ দিন এফআইআই-দের নিট ক্রয়, তবে কি এবার কাটবে মন্দার মেঘ?

ভারতীয় শেয়ার বাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) মনোভাবে বড় বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে ক্রমাগত শেয়ার বিক্রির যে ধারা চলে আসছিল, তাতে অবশেষে ছেদ পড়ল। সাম্প্রতিক সেশনগুলোতে ক্যাশ মার্কেটে টানা তিন দিন ধরে নিট ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। গত তিন কার্যদিবসে তাঁরা বাজারে মোট ১,৭৩১.৭১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

পরিসংখ্যান কী বলছে?
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই এপ্রিল ৬৬৬.১৫ কোটি টাকা, ১৬ই এপ্রিল ৩৮২.৩৬ কোটি টাকা এবং ১৭ই এপ্রিল ৬৮৩.২০ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২৫শে ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম টানা তিন দিন এফআইআই-রা নিট ক্রেতা হিসেবে থাকলেন। অথচ ২০২৬ সালের শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। মার্চ মাসেই বাজার থেকে ১,২২,৫৪০.৪১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিলেন তাঁরা। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত যে বিশাল বহিঃপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল, সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাকে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান:
বিদেশিরা যখন বাজারে ফিরছেন, তখন উল্টো পথে হাঁটছেন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (DII)। গত তিন দিনে তাঁরা নিট বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেছেন। শুধুমাত্র ১৭ই এপ্রিলই তাঁরা ৪,৭২১.৪৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। তবে বছরের শুরুতে যখন বিদেশিরা ক্রমাগত শেয়ার বেচে বাজার ফেলে দিচ্ছিলেন, তখন ডিআইআই-রাই হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বাজারকে রক্ষা করেছিলেন।

কেন হঠাৎ ফিরছে বিদেশি বিনিয়োগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ মুদ্রার স্থিতিশীলতা। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত জল্পনা রোধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ায় রুপির পতন থমকে গেছে। গত ৩০শে মার্চ এক ডলারের দাম যেখানে ৯৫.৩০ রুপিতে পৌঁছেছিল, ১৭ই এপ্রিল তা কমে ৯২.৮ রুপিতে দাঁড়িয়েছে।

পাশাপাশি, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯০ ডলারের আশেপাশে থিতু হওয়ায় রুপির মান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই স্থিতিশীলতাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পুনরায় ভারতীয় বাজারে অর্থ ঢালতে উৎসাহিত করছে।