ঘুম উড়ল প্রশাসনের! চিনের সিচুয়ানে ৫.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নেপালে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক!

বৃহস্পতিবার নেপাল কেঁপে ওঠার পর এবার শুক্রবার দুপুরে চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশের লংচাং শহরে আঘাত হানল ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ২৯.২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ১০৫.২২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং গভীরতা ছিল মাত্র ১৩ কিলোমিটার। তুলনামূলকভাবে কম গভীরতার কারণে এই কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়। লংচাং শহরটি চংকিং পৌরসভার সীমান্তবর্তী এবং চেংদু ও চংকিং শহরের মাঝামাঝি অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নেপালের পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় ৩.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত ১১টা ২৭ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে অনুভূত এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭০ কিলোমিটার গভীরে এবং এর স্থানাঙ্ক ছিল ২৭.৮৫৬° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৭.৯০৮° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ভূগর্ভে গভীরতা বেশি থাকায় এবং মাত্রা মৃদু হওয়ায় ওই সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে নেপালে সম্প্রতি হড়পা বানের কারণে প্রায় ৫০০ জনের মৃত্যু এবং দেড় হাজারের কাছাকাছি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর এই পরপর ভূমিকম্প দেশটিতে নতুন করে ত্রাস সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান ভূপ্রাকৃতিক অবস্থার জেরে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফের ভয়াবহ হড়পা বান দেখা দিতে পারে। এই সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকার বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ জোরকদমে শুরু হয়েছে। চিনে ভূমিকম্পের জেরে পার্শ্ববর্তী এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ ও নদী তীরবর্তী এলাকার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক করে তুলেছে।