পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার মুখে হাসি ফুটিয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের যোগ্য মহিলারা যাতে আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য সরকার আবেদন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ এবং দ্বিমুখী করেছে। প্রযুক্তি সচেতন প্রজন্মের জন্য যেমন অনলাইন পোর্টালে আবেদনের সুবিধা রয়েছে, তেমনই প্রবীণ বা ইন্টারনেট বিমুখ উপভোক্তাদের জন্য রয়েছে অফলাইন বা কাগজের ফর্মে আবেদনের সুযোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন।
অফলাইন আবেদন প্রক্রিয়া:
যারা সরাসরি সরকারি দপ্তরে গিয়ে আবেদন করতে চান, তারা নিকটবর্তী বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত কার্যালয় বা পুরসভা থেকে ১২ পাতার নির্দিষ্ট আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। ফর্মটি পূরণের সময় নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নাম, ঠিকানা ও সচল মোবাইল নম্বর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং ব্যাংক পাসবইয়ের প্রথম পাতার ফটোকপি যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। সমস্ত নথিপত্র যথাযথভাবে পিনআপ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি ক্যাম্প বা দপ্তরে জমা দিন। জমা দেওয়ার পর অফিসারদের কাছ থেকে অবশ্যই একটি ‘অ্যাকনলেজমেন্ট রসিদ’ সংগ্রহ করবেন, যা ভবিষ্যৎ স্ট্যাটাস চেক করার জন্য অপরিহার্য।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া:
ডিজিটাল দুনিয়ার সুবিধা নিতে চাইলে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল পোর্টালে ভিজিট করুন। মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আবেদনপত্রটি খুলুন। এখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নির্ভুলভাবে টাইপ করুন। এরপর আধার কার্ড ও ব্যাংক পাসবইয়ের ছবি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। ফর্ম সাবমিট করার আগে তথ্য যাচাই করে নিন। চূড়ান্ত সাবমিটের পর একটি ‘ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন আইডি’ জেনারেট হবে, যা নোট করে রাখুন।
টাকা পাওয়ার শর্ত:
অনেকেরই মনে প্রশ্ন থাকে, আবেদন করার কতদিন পর টাকা মিলবে? বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের তথ্য অনুযায়ী, যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যেই টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। তবে এই টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত রয়েছে—আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে অবশ্যই ‘আধার লিঙ্ক’ এবং ‘ডিবিটি’ (Direct Benefit Transfer) সক্রিয় থাকতে হবে। আধার কার্ডের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সরাসরি সংযোগ না থাকলে সরকারি টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে বা টাকা আটকে যেতে পারে।
তাই আবেদন করার আগে অতি অবশ্যই নিকটবর্তী ব্যাংকে গিয়ে আধার লিঙ্কিং স্ট্যাটাস যাচাই করে নিন। সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তোলার যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তা সফল করতে উপভোক্তাদের সচেতন থাকাই এখন প্রধান দায়িত্ব। কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর প্রলোভনে পা না দিয়ে সরাসরি সরকারি পোর্টাল বা অফিসিয়াল ক্যাম্পের মাধ্যমেই আবেদন করুন।





