গ্রেফতার কুড়মি নেতা, হাইকোর্টের রায়েও দমানো গেল না বিক্ষোভ! আন্দোলনের নতুন মোড়?

আদিবাসী কুড়মি সমাজের ডাকা ‘রেল টেকা ও ডহর ছেঁকা’ কর্মসূচির প্রভাব শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পুরুলিয়ায় তেমনভাবে দেখা যায়নি। কলকাতা হাইকোর্ট আগেই এই আন্দোলনকে বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল। আদালতের এই রায়ের পর পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়, যার ফলে আন্দোলনকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

পুরুলিয়ার কুস্তাউর, ঝালদা, কোটশিলা এবং পুরুলিয়া রেল স্টেশনে ট্রেন চলাচল ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। সড়কপথেও কোনো অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্টেশনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ এবং আরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছিল।

তবে এই শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতোকে শুক্রবার গভীর রাতে কোটশিলা এলাকা থেকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো। তিনি বলেন, “শুক্রবার গভীর রাতে বাবা-সহ আরও ১৪-১৫ জন কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে।” যদিও পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এই আটকের খবর অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, “কোথাও কোনো অবরোধ নেই, জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে।”

আন্দোলনের এই পরিস্থিতিতে রেল কর্তৃপক্ষ কিছু ট্রেন বাতিল এবং কয়েকটি ট্রেনের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বান্দোয়ান-পুরুলিয়া রাজ্য সড়কে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দোয়ান-ঝাড়খণ্ড সীমানা এবং বরাবাজার-ঝাড়খণ্ড সীমানায় কঠোর নাকা চেকিং চলছে, যার কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। তবে পুরুলিয়া সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডে কুড়মি সমাজের ডাকে রেললাইন অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।

কলকাতা হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার কুড়মি সমাজের রেল ও সড়ক অবরোধ নিয়ে পুরোনো রায় বহাল রেখে জানায়, এই কর্মসূচি অসাংবিধানিক। এই রায়ের পর পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সাংবাদিক সম্মেলন করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় বা মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তবে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই নির্দেশের পক্ষে গ্রামে গ্রামে মাইক প্রচার এবং রুট মার্চও করা হয়।

শনিবার সকালে কোটশিলা থানা এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোটশিলা থানার জিউদারু এবং আড়শা থানার বড়ামে পুলিশের সঙ্গে কুড়মি সমাজের সমর্থকদের বচসা হয়। সড়কপথে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন ছিল।