গ্যাসের হাহাকারে দিশেহারা বাংলা! হেঁশেল বাঁচাতে ইলেকট্রনিক্স দোকানে লম্বা লাইন

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি বাঙালির হেঁশেলে। রাজ্যজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের জেরে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। ফোনে বুকিং মিলছে না, ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে গিয়েও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এখন ইন্ডাকশন ওভেন এবং মাইক্রোওভেনের দিকে ঝুঁকছেন মধ্যবিত্তরা।

কলকাতা থেকে জেলা—শপিং মল হোক বা পাড়ার ইলেকট্রনিক্স দোকান, সর্বত্রই ইন্ডাকশন কেনার হিড়িক। শ্যামবাজারের বাসিন্দা রঞ্জন দাসের কথায়, “গ্যাসের যা অবস্থা, ইন্ডাকশন ছাড়া উপায় নেই।” অনেক জায়গায় চাহিদা এতই বেশি যে স্টক শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, আগে থেকে টাকা দিয়ে বুক করে রাখছেন ক্রেতারা। এমনকি অনলাইনের খাবার গরম করার জন্যও মাইক্রোওভেনের চাহিদা তুঙ্গে।

সংকট শুধু বাড়িতেই নয়, পৌঁছেছে হাসপাতালেও। বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্টিনেও গ্যাসের আকাল। প্রতিদিন ২০০ জন চিকিৎসক ও কর্মীর রান্নার জন্য চড়া দামে ব্ল্যাকে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্র অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন জারি করে রান্নার গ্যাসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, মাঠপর্যায়ে হাহাকার কমছে না। ফলে মানুষের ভরসা এখন শুধুই বিদ্যুচ্চালিত উনুন।