মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের বাজারে রান্নার গ্যাসের দামে আগুন। একদিকে এক ধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে কার্যত দিশেহারা মধ্যবিত্ত বাঙালি। তবে হাত গুটিয়ে বসে নেই আমজনতা। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এখন আমজনতার তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে ইন্ডাকশন কুকার, রাইস কুকার ও মাইক্রোওভেন।
বিক্রিতে রেকর্ড বৃদ্ধি
গ্যাসের সিলিন্ডার হাতে পেতে এক মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে রান্নাঘর সচল রাখতে বিকল্প বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের চাহিদা এক লাফে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। ধর্মতলা থেকে ক্যামাক স্ট্রিট কিংবা বেলঘরিয়া—শহরের ছোট-বড় সব ইলেকট্রনিক দোকানেই এখন ভিড় উপচে পড়ছে। বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
কেন ঝুঁকছে মানুষ?
বাজারে বর্তমানে ১,৬০০ থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে মিলছে মানসম্মত ইন্ডাকশন কুকার। ক্রেতাদের বক্তব্য স্পষ্ট:
-
অনিশ্চয়তা: “বেশি দাম দিলেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বাড়িতে বিকল্প হিসেবে অন্তত একটা ইন্ডাকশন রাখা জরুরি।”
-
সাশ্রয় ও সুবিধা: রাইস কুকারে ভাত বা আলু সেদ্ধর মতো কাজগুলো সহজে করে ফেলা যাচ্ছে, যা গ্যাসের ওপর চাপ কমাচ্ছে।
আসছে দাম বাড়ার খবর
চাহিদার এই ঊর্ধ্বগতি দেখে চিন্তার ভাঁজ বিক্রেতাদের কপালে। ক্যামাক স্ট্রিটের এক ব্যবসায়ীর দাবি, স্টকের টান পড়ায় খুব শীঘ্রই ইলেকট্রনিক রান্নার যন্ত্রপাতির দামও বাড়তে পারে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আবার সুযোগ বুঝে এখনই দাম কিছুটা বাড়িয়ে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বদলে যাচ্ছে হেঁশেল
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির বাজারে যা পরিস্থিতি, তাতে ভবিষ্যতে প্রতিটি বাড়িতেই গ্যাসের সমান্তরাল ব্যবস্থা হিসেবে ইলেকট্রনিক কুকিং ব্যবস্থা থাকাটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়াবে। আপাতত সিলিন্ডারের ঝক্কি এড়াতে ইলেকট্রিক প্লাগেই ভরসা খুঁজছে শহর থেকে শহরতলি।