গ্যাজেট থেকে উধাও ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট! মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তেহসিন

দেশের জ্বালানি নীতি এবং বহুল আলোচিত ই২০ (ইথানল মিশ্রিত পেট্রল) পলিসিকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ই২০ নীতির বিরোধিতায় সরব হওয়ার পরেই প্রখ্যাত সামাজিক কর্মী তথা বিশিষ্ট শিল্পপতি তেহসিন পুনওয়ালাকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটি তেহসিন নিজেই তাঁর সামাজিক মাধ্যমের হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করে দেশবাসীকে জানিয়েছেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গত ৩১ জুলাই ই২০ নীতির বিরুদ্ধে একটি বিশাল ‘গাড়ি মার্চ’ বা গাড়ি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই কর্মসূচি রূপায়ণের ঠিক আগেই যেভাবে পুলিশি পদক্ষেপে তাকে আটকে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ওই ভিডিওটিতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে, তেহসিন পুনওয়ালার বাসভবনে বিপুল সংখ্যক দিল্লি পুলিশ এবং মহিলা পুলিশকর্মীরা এসে হাজির হয়েছেন। ভিডিওতে তেহসিনকে সরাসরি পুলিশ কর্মীদের মুখোমুখি হতে এবং তাঁদের কাছে আটক করার কোনো আইনি পরোয়ানা বা লিখিত নথি দেখতে চাইতে দেখা যায়। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন যে, দেশের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক ১৫ দিন আগে এভাবে অন্যায়ভাবে তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। তিনি পুলিশ কর্মীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে তাঁর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। তেহসিন অভিযোগ করেন যে, সরকারের ইথানল নীতির কড়া সমালোচনা করার জন্যই তাঁর কণ্ঠস্বর রোধ করার এই সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নীতিন গড়কীকে নিশানা করেছেন।
এর আগে গত ৩১ জুলাই নির্ধারিত ‘গাড়ি মার্চ’ কর্মসূচি শুরু হওয়ার ঠিক প্রাক্কালে আরও একটি বড় ধাক্কার মুখোমুখি হয়েছিলেন তেহসিন পুনওয়ালা। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে, পরিকল্পিত প্রতিবাদের ঠিক আগে তাঁর অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি আকস্মিকভাবে সাসপেন্ড বা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর সরাসরি অভিযোগ ছিল যে, ই২০ নীতির বিরুদ্ধে যে জোরালো আন্দোলন তিনি গড়ে তুলেছিলেন, তা থামিয়ে দিতেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে। যদিও ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড করার কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক কারণ এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তেহসিন একটি পোস্টে লিখেছিলেন যে, তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @tehseenpoonawalla হঠাৎ করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে বর্তমান সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোকেও ভয় পাচ্ছে। যাঁরা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তাঁরা সকলেই জানেন যে তিনি অত্যন্ত সংযত এবং শালীন মানুষ। তিনি সবসময় সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং যুক্তিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই কথা বলেন এবং কখনো কোনো অবস্থাতেই কুরুচিকর বা অভদ্র ভাষা ব্যবহার করেন না। অথচ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করার জন্যই এই ধরনের দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই ই২০ পেট্রলের বিরুদ্ধে নিজের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে লাগাতার তথ্যসমৃদ্ধ ভিডিও এবং জোরালো পোস্ট শেয়ার করে আসছিলেন তেহসিন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, ৩১ জুলাই ইন্ডি গেট থেকে শুরু করে সংসদ স্ট্রিট পর্যন্ত একটি বিশাল ‘গাড়ি মার্চ’ বা প্রতিবাদী র্যালি বের করা হবে। সাধারণ মানুষ এবং গাড়ি মালিকদের তিনি এই মিছিলে বিপুল সংখ্যায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের কাছে দাবি জানানো যেন ই২০ পেট্রলকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তটি পুনরায় বিবেচনা করা হয় এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সাধারণ বা বিশুদ্ধ পেট্রলের বিকল্প খোলা রাখা হয়। এই পুরো ঘটনায় প্রশাসন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।