সাধুর ছদ্মবেশে রামের ছবি পায়ে! পর্নকাণ্ড থেকে অনুদান চুরির অভিযোগে বিপাকে পাপ্পু যাদব

ভারতীয় রাজনীতিতে প্রতিবাদের ধরন বহুবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কিন্তু এবার দিল্লির সংসদ চত্বরে ঘটা একটি রাজনৈতিক অভিনব প্রতিবাদের জেরে বিশাল আইনি বিপাকে পড়েছেন পূর্ণিয়ার প্রভাবশালী স্বতন্ত্র সাংসদ পাপ্পু যাদব। সম্প্রতি সংসদ ভবনের চত্বরের বাইরে ‘সাধু’ বা সন্তের ছদ্মবেশ ধারণ করে রাম মন্দিরের অনুদান বা প্রসাদ চুরির প্রতীকী ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। কিন্তু সেই রাজনৈতিক স্টান্ট শেষ পর্যন্ত পাপন যাদবের নিজের পক্ষেই অত্যন্ত মারাত্মকভাবে হিতে বিপরীত হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে সুপরিকল্পিতভাবে আঘাত হানার গুরুতর অভিযোগে রাজধানী দিল্লির একটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে এখন তীব্র ঝড় উঠেছে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, সূর্য মৈথিল নামক এক সচেতন নাগরিক দিল্লির সংশ্লিষ্ট থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে যে, পাপ্পু যাদব যেভাবে গেরুয়া বস্ত্রের পবিত্রতা এবং সনাতন সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে অপমান করেছেন এবং সংসদের বাইরে যে অত্যন্ত নিম্নমানের নাটক মঞ্চস্থ করেছেন, তাতে বিরোধী শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট নেতার নীরব ও সোচ্চার সমর্থন ছিল। অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে, এই রাজনৈতিক নাটকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব, অযোধ্যার সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এবং ইন্ডি জোটের অন্যান্য প্রভাবশালী সাংসদরা সরাসরি জড়িত ছিলেন। সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, পাপ্পু যাদব নাকি ভগবান রামলল্লা বিরাজমানের একটি পবিত্র ছবি অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে তাঁর নিজের পায়ের নিচে রেখে দিয়েছিলেন, যা সারা দেশের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি গভীর আঘাত হেনেছে।
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জোরালো দাবি জানিয়ে অভিযোগকারী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “আমি দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী থানায় এই সমস্ত প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, ডিসিপি নর্থ, ডিসিপি নর্থ ওয়েস্ট, এসিপি জাহাঙ্গীরপুরী এবং এসএইচও জাহাঙ্গীরপুরীর কাছে অত্যন্ত জোরালো দাবি জানাচ্ছি যে, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ভগবানকে অবমাননা করার এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৩১শে জুলাই), রাম মন্দিরের অনুদান চুরির প্রতীকী অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে সংসদ চত্বরে একটি অভিনব ও বিতর্কিত বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছিল। সেই প্রতিবাদ মিছিলেই সাংসদ পাপ্পু যাদব একজন ভণ্ড ‘সাধু’র ছদ্মবেশ ধারণ করে সংসদ চত্বরের মেঝেতে বসে পড়ে অনুদান সংগ্রহ করার নাটক শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন সাংসদ সেখানে এসে তাঁকে প্রতীকী অনুদান দেন। এরপর অযোধ্যার সমাজবাদী পার্টির সাংসদ অবধেশ প্রসাদ এসে আশীর্বাদ নেওয়ার অসিলায় পাপ্পু যাদবের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম পর্যন্ত করেন। কিন্তু চরম নাটকীয়তার মোড় নেয় ঠিক এর পরেই, যখন অনুদান জমা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাপ্পু যাদব সেই অনুদানের বাক্সটি নিয়ে ফিল্মি কায়দায় চম্পট দেন বা পালিয়ে যাওয়ার ভান করেন।
বিরোধী শিবিরের এই চরম অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শাসক দল বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিশিষ্ট বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেছেন যে, কংগ্রেস পার্টি এবং তার ইন্ডি জোটের শরিকরা সনাতন ধর্ম, দেশের সাধু-সন্ত এবং স্বয়ং ভগবান শ্রীরামের মহিমাকে অবমাননা করার বা উপহাস করার একটিও সুযোগ হাতছাড়া করে না। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন যে, ভগবান রামের পবিত্র ছবির আড়ালে নোংরা রাজনৈতিক নাটক তৈরি করে রাহুল গান্ধী মূলত সংসদে সেই সমস্ত লোকজনকে উৎসাহিত করছেন, যারা অতীতে বিভিন্ন সময়ে নারীদের চরিত্র ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা সর্বৈব অত্যন্ত নিন্দনীয়।
অনুরাগ ঠাকুর আরও তীব্র কটাক্ষ করে বলেন যে, যে কংগ্রেস দল অতীতে আদালতেও ভগবান শ্রীরামের ঐতিহাসিক অস্তিত্ব অস্বীকার করেছিল এবং যে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) অতীতে অযোধ্যাতে নিরীহ কর সেবকদের ওপর পুলিশি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, আজ তারাই সাধুর ছদ্মবেশ ধারণ করে সনাতন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উপহাস করার খেলায় মেতে উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও হিন্দু সংগঠনগুলোও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।