‘গ্যাং’ মন্তব্যে বিতর্ক তুঙ্গে! তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় চাঞ্চল্যকর এফআইআর

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও আইনি পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে এল। এবার বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে তর্কমূলক উত্তরের প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী অর্ণব কান্তি দাস নামক ভবানীপুরের এক বাসিন্দা, যিনি তৃণমূল সাংসদের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সমাজের সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

মূল অভিযোগ কী?
অভিযোগকারীর দাবি, গত ২ মে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টের উত্তর দিতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গুজরাতি সম্প্রদায়কে ‘গ্যাং’ বলে সম্বোধন করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংসদের এই মন্তব্য কেবল আপত্তিকরই নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াতে পারে। এটি দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তি নষ্ট করার চেষ্টার শামিল বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী। পুলিশ সূত্রে খবর, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

অতীতের ঘটনা ও আইনি জটিলতা:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকার ১৫ মে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ইমেলের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়েছিলেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী।

ঐ মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯২, ১৯৬, ৩৫১/২, ৩৫৩(১)(C), ১২৩(২) এবং ১২৫ নম্বর ধারার মতো গুরুতর সব ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই সময় অভিযোগকারী প্রমাণ হিসেবে বেশ কয়েকটি বক্তৃতার লিঙ্কও জমা দিয়েছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই ইমেলটি ফরওয়ার্ড করে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি:
টানা কয়েকবারের আইনি অস্বস্তিতে তৃণমূলের এই শীর্ষনেতা। একদিকে নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা, অন্যদিকে একের পর এক আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে সরগরম বাংলার রাজনীতি। ভবানীপুর থানায় দায়ের হওয়া এই নতুন অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা সাংসদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আপাতত ভবানীপুর থানার পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এখন দেখার, এই মামলার জল কতদূর গড়ায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy