‘গো-ব্যাক’ স্লোগান বনাম পদ্ম শিবির! প্রচারে নেমেই রণক্ষেত্র ভবানীপুর, থানায় ছুটলেন শুভেন্দু

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের দামামা বেজে গেল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায়। শনিবার ইদের সকালে কালীঘাট মন্দিরে দেবীর চরণে পুজো দিয়ে নিজের প্রচার অভিযান শুরু করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই তাঁর ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন ‘একদা সেনাপতি’ শুভেন্দু।

কালীঘাটে পুজো ও কড়া নিরাপত্তা

শনিবার সকালে কয়েকশো কর্মী-সমর্থককে সাথে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর আগমন ঘিরে মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। দেবীর আরাধনা সেরে তিনি সোজা চলে যান ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্দরে। জানা গিয়েছে, এলাকার পুরনো বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে জনসংযোগ সারবেন তিনি। দিন শেষে তাঁর গন্তব্য নিজের গড় নন্দীগ্রাম।

প্রচারে নেমেই বিপত্তি: ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান ও উত্তেজনা

ভবানীপুরের লড়াই যে মসৃণ হবে না, তা টের পাওয়া গেল প্রচারের শুরুতেই। চক্রবেড়িয়া এলাকায় শুভেন্দু পৌঁছাতেই তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান। পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরাও। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পরে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে থানায় গিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী।

মমতা বনাম শুভেন্দু: লড়াই এবার প্রেস্টিজ ফাইট

ভবানীপুর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি এবং খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র। কিন্তু বিজেপি শুভেন্দুকে প্রার্থী করায় এই আসনটি এখন গোটা রাজ্যের নজর কেড়েছে।

  • শুভেন্দুর লক্ষ্য: মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে থাবা বসিয়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন।

  • মমতার আত্মবিশ্বাস: “ভবানীপুরে জয় নিশ্চিত, এখান থেকেই রাজ্য জয়ের বার্তা যাবে।”

শাসকদল এই লড়াইকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে না চাইলেও, গ্রাউন্ড জিরোর পরিস্থিতি বলছে—২০২৬-এর সবথেকে বড় রাজনৈতিক যুদ্ধ হতে চলেছে এই ভবানীপুরেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy