গোলপার্কে ABVP-র বিক্ষোভ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে ধুন্ধুমার! এসএফআই-এর সঙ্গে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই-এর ডাকা জেনারেল বডি (জিবি) মিটিংকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসএফআইসহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)-এর সমর্থকদের ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গোলপার্ক থেকে এবিভিপি একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। জিবি মিটিং ডাকার এক্তিয়ার এবং বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তোলে এবিভিপি।
সূত্রের খবর, গতকাল রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এসএফআই-এর পক্ষ থেকে একটি সাধারণ সভা বা জিবি মিটিং ডাকা হয়েছিল। এই সভা ডাকার সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার বাম ছাত্র সংগঠনগুলির রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায় এবিভিপি। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের পরিবেশ অশান্ত করার জন্যই এই ধরনের একতরফা মিটিং ডাকা হয়েছে। প্রতিবাদ জানাতে এবিভিপি সমর্থকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এবিভিপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায় এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির কর্মীরা। দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি থেকে শুরু করে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। গভীর রাতের এই ঘটনায় গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় যাদবপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বাম ও অতি-বাম ছাত্র সংগঠন বনাম ডানপন্থী ছাত্র সংগঠনের এই সংঘাতে ছাত্র রাজনীতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে প্ররোচনা ও হিংসার অভিযোগ তুলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ক্যাম্পাসে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঘটনার জেরে যাদবপুর থানা এলাকাতেও উত্তেজনার পারদ চড়েছে, যেখানে এবিভিপি সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান।