গোরু পাচার যোগ থাকা ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে বিপুল টাকা, হানা বিশাল বাহিনীর

ফের কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমে। গোরু পাচার মামলায় নাম জড়ানো বীরভূমের প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিল মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে শুরু হওয়া এই অভিযান গড়িয়েছে বুধবার সকালেও।

অভিযান চলাকালীন বাড়ি থেকে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ায় তড়িঘড়ি আনা হয়েছে অন্তত পাঁচটি নোট গোনার মেশিন এবং কয়েকটি বড় ট্রাঙ্ক। এলাকা সূত্রে খবর, উদ্ধারের পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। গোটা ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

কে এই মিনার মণ্ডল? সাবেক বাসচালক থেকে ধনকুবের হওয়ার গল্প

সূত্রের খবর, মিনার মণ্ডল একসময় সরকারি বাসের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে সেই চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়ে তিনি পুরোদমে পাথরের ব্যবসায় নেমে পড়েন। মহম্মদবাজারের দাপুটে পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বোনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মিনার।

নিজের ব্যবসার পাশাপাশি শ্যালক টুলু মণ্ডলের বিশাল সাম্রাজ্য ও অর্থনৈতিক লেনদেনের মূল দেখভাল করতেন মিনার নিজেই। গভীর রাতে তাঁর ডেউচা বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাড়িতে পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ দেখেই চোখ কপালে উঠেছে আধিকারিকদের।

কড়া নজরদারিতে তল্লাশি, নেপথ্যে গোরু পাচার মামলার সংযোগ?

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ সাল নাগাদ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) যখন গোরু পাচার মামলার তদন্তে নামে, তখনই প্রথম প্রকাশ্যে আসে টুলু মণ্ডলের নাম। অভিযোগ ছিল, বীরভূমের তৎকালীন দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ছায়াসঙ্গী সায়গল হোসেনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল টুলুর। সায়গলকে জেরার পর কলকাতার ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে বীরভূমের অঢেল সম্পত্তির মালিক টুলুকে তলবও করেছিল ইডি।

এবার সেই ‘সায়গল-ঘনিষ্ঠ’ টুলু মণ্ডলের নিকট আত্মীয় তথা মূল সহযোগী মিনারের বাড়িতে রাজ্য পুলিশের এই আচমকা হানায় তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে জোরকদমে উদ্ধারকৃত অর্থ গণনার কাজ চলছে।