গোবিন্দপুরে মর্মান্তিক ট্রেন-পুলকার দুর্ঘটনা! স্বজনহারাদের পাশে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত গেটম্যানের কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর!

আজ মুর্শিদাবাদে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত ১৭ জুলাই গোবিন্দপুর রেলগেটে ট্রেন-পুলকার মর্মান্তিক সংঘর্ষে চার স্কুলপড়ুয়া সহ মোট পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল পুরো এলাকায়। আজ বহরমপুর স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে সড়কপথে সোজা সেই দুর্ঘটনাগ্রস্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারা পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করে তাদের হাতে সরকারি আর্থিক সাহায্য তুলে দেন তিনি। মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা ও প্রদান করা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কীভাবে ভবিষ্যতে এই ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব এবং এক্ষেত্রে রেল কর্তৃপক্ষের ঠিক কী করণীয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও রেল কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।

আজ গোবিন্দপুর গ্রামের শোকার্ত মানুষদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আইনমতে ওর চূড়ান্ত শাস্তি হবে। এটা সম্পূর্ণ ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমি প্রতিটি পরিবারের পাশে আছি।” মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্বজনহারাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এখানে চোখের জল ছাড়া আর অন্য কিছু আমাদের দেওয়ার মতো নেই। ঈশ্বর এই পরিবারগুলিকে শক্তি দিক, যাতে তাঁরা এই অপূরণীয় শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন।” আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে তিনি প্রচারের আলোয় থাকার জন্য কাজ করেন না এবং যে অর্থ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থ। এর বাইরেও পরিবারগুলির অন্য যেকোনো প্রয়োজনের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন ও এসপিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কার্যত অভিভাবকের মতো সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সকল গ্রামবাসীদের অনুরোধ করব, এই শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির প্রতি সর্বদা নজর রাখবেন। তাঁরা যাতে কোনোভাবেই একাকীত্ব অনুভব না করেন, তা দেখা আমাদের সকলের যৌথ দায়িত্ব।” অভিযুক্ত গেটম্যানের চরম শাস্তির দাবি তুলে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, জেলের ভেতরে থাকাকালীনই তদন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট জমা দিতে হবে এবং কাস্টডি ট্রায়ালের মাধ্যমে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে সার্বিক সুরক্ষাবৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলারও আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝের লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় স্কুল পুলকারটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল।