গৃহকর্মীর ছকেই খুন বৃদ্ধা! পঞ্চসায়রের খুনের রহস্য ফাঁস, গ্রেফতার আয়া ও তার সঙ্গী

নিউ গড়িয়ার পঞ্চসায়রে ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বিজয়া দাসের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস খুনের পেছনে রয়েছে লুটের পরিকল্পনা। এই ঘটনায় বাড়ির নতুন আয়া এবং তার পুরুষ সঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আয়া আশালতা সর্দার গত ১৭ আগস্ট দাস দম্পতির দেখাশোনা করার জন্য ওই বাড়িতে কাজে যোগ দেয়। স্থানীয় একটি আয়া সেন্টারের মাধ্যমে তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওই বাড়িতে কাজ করার সময় থেকেই সে চুরির পরিকল্পনা করে। বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষ হওয়ার পর সে তার এক পুরুষ সঙ্গীকে নিয়ে আবার সেই বাড়িতে ঢোকে। তারা প্রথমেই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ও সিসিটিভি-র তার কেটে দেয়। এরপর শুরু হয় লুটপাট।

যখন বৃদ্ধা বিজয়া দাস তাদের বাধা দিতে যান, তখন তারা তার মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর একটি ভারী জিনিস দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার মৃত্যু হয়। দুষ্কৃতীরা তার শরীর থেকে সব সোনার গয়না খুলে নেয়। শুধু তাই নয়, ৮২ বছর বয়সী অথর্ব বৃদ্ধ প্রশান্ত কুমার দাসকেও তারা খাটের নিচে ফেলে দেয়। এরপর পেছনের দরজা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

কীভাবে ধরা পড়ল অপরাধীরা?

শুক্রবার সকালে ১৫ বছরের পরিচারিকা মধুমিতা প্রতিদিনের মতো কাজ করতে এসে দেখেন, পেছনের গেট বাইরে থেকে বন্ধ। সন্দেহ হওয়ায় গেট খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন, সিঁড়ির কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় বিজয়া দাস পড়ে আছেন। তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দ্রুত বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

তদন্তে নেমে পুলিশ আয়া আশালতা সর্দার এবং তার সঙ্গীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানতে পারে, বৃদ্ধ দম্পতির দুই ছেলে বিদেশে থাকেন এবং তারা দুজনেই শারীরিকভাবে দুর্বল। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে আয়া এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছে। এই মুহূর্তে বৃদ্ধ প্রশান্ত কুমার দাসকে তার আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।