গাজায় শান্তি ফেরাতে হামাসের চরম শর্ত, ‘ফিলিস্তিন থেকে চিরতরে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে ইসরায়েলকে!’

দীর্ঘ ২৭ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার দ্বিতীয় দিনে নিজেদের চূড়ান্ত শর্ত জানাল হামাস। মঙ্গলবার গাজায় শান্তি ফেরানোর আলোচনা শেষে হামাস স্পষ্ট দাবি করেছে, ইসরায়েলকে প্যালেস্টাইন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে চিরদিনের মতো যুদ্ধে ইতি টানতে হবে। এই বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশ্চিত করতে হবে।

মিশরের শার্ম-এল-শেখ শহরের রেড সি রিসর্টে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধিদের মধ্যে সোমবার থেকে এই বৈঠক শুরু হয়েছে। আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত রয়েছেন স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাই জেয়ার্ড কুশনার। বুধবার তৃতীয় দিনের আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং তুর্কির কূটনীতিবিদরাও উপস্থিত থাকবেন বলে খবর।

ট্রাম্পের অবস্থান: ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তি সকলে মানবে, তা নিশ্চিত করব’
হামাসের এই শর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সবুজ সংকেত দেখিয়েছেন। বুধবার ওভাল অফিসের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানালে সেই চুক্তি যাতে সকলে মেনে নেয়, তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সবকিছু করবেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, “আমার অনুমান মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ফেরাবো। গাজার বর্তমান পরিস্থিতির থেকেও এই বিষয়টি বড়। আমরা চাই যুদ্ধবন্দিদের দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হোক।”

সংঘাতের প্রেক্ষাপট: ধ্বংস ও বন্দিদশার ২৭ মাস
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইহুদিদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান সুক্কোত চলাকালীন হামলা চালায় হামাস। দেশের ইতিহাসে সবথেকে বড় এই হামলায় মৃত্যু হয় ১,২১৯ জনের এবং ২৫১ জনকে বন্দি হিসাবে নিয়ে যায় হামাস। যদিও পরে বাকিদের ছেড়ে দিলেও গত ২৪ মাস ধরে ৪৭ জনকে এখনও নিজেদের কাছে রেখেছে হামাস। তবে ইসরায়েলি সেনার দাবি, এই ৪৭ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরপর গাজায় পাল্টা আক্রমণ করে ইসরায়েলি সেনা। ইসরায়েলি সেনার একের পর এক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের দ্বীপরাষ্ট্র গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। সম্প্রতি গাজার সীমান্ত বন্ধের নির্দেশ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, যার ফলে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে গাজায় শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসের দায়িত্বে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ করেন। এখন হামাসের কঠিন শর্তের মুখে দাঁড়িয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।