গলায় শিকল, শরীরে গরম রডের ছ্যাঁকা! স্ত্রীর ওপর পৈশাচিক অত্যাচারে শিউরে উঠল রাজগড়

বধূ নির্যাতনের ঘটনা যেন দেশের এক ভয়াবহ অভিশাপ। প্রতিদিন অগণিত নারী পণের দাবি বা স্বামীর অমানবিক মেজাজের বলি হচ্ছেন। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে কত যে আন্দোলন, কত যে সংগঠন, অথচ বাস্তবে চিত্রটা আজও একই। ভোপালের সেই নৃশংস ঘটনার স্মৃতি টাটকা থাকতেই, মধ্যপ্রদেশের রাজগড় থেকে উঠে এল আরও এক বীভৎস নির্যাতনের কাহিনি। যা শুনে শিউরে উঠছে সভ্য সমাজ।

অভিযোগ, নিজের স্ত্রীকেই গলায় লোহার শিকল বেঁধে ঘরের খুঁটির সঙ্গে তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন স্বামী সরদার সিং তনওয়ার। এখানেই শেষ নয়, গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেওয়ার মতো অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় ওই গৃহবধূর ওপর। প্রায় ২৪ ঘণ্টা বন্দি থাকার পর, পাথর দিয়ে তালা ভেঙে প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়েছেন নির্যাতিতা। ক্ষতবিক্ষত শরীরে ৬ কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছেছেন খিলচিপুর থানায়।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন অভিযুক্ত সরদার সিং। রাতে খাবার সময় সামান্য বচসা থেকেই উত্তেজনার শুরু। প্রতিবাদ করায় স্ত্রী’র ওপর চড়াও হন স্বামী। বাড়ির বাইরে থেকে গাছের ডাল কেটে এনে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। নির্যাতিতা সেই রাতেই থানা অভিমুখে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু মাঝপথে মন্দিরের কাছে স্বামী তাঁকে ধরে ফেলেন। পুনরায় মারধর করে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে গলায় লোহার শিকল পরিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন অভিযুক্ত। তখন তিনি স্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, ‘এবার দেখি কীভাবে থানায় গিয়ে অভিযোগ করো।’

নির্যাতনের এখানেই শেষ নয়, আগুনের ওপর লোহার রড গরম করে ওই মহিলার কোমর, নিতম্ব এবং উরুতে বারবার ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। প্রায় একদিন ধরে ওই অবস্থায় ঘরবন্দি ছিলেন মহিলা। এদিকে অভিযুক্ত স্বামী নিজের অপরাধ ঢাকতে গ্রামের লোকজনকে নিয়ে সালিশি সভা বসানোর ফন্দি আঁটছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান নির্যাতিতা।

সরদার সিং গ্রামবাসীদের ডাকতে বাড়ির বাইরে গেলে, গৃহবধূ ঘরে থাকা একটি পাথর দিয়ে ক্রমাগত তালা ভাঙার চেষ্টা করেন। বহু কসরতের পর অবশেষে শিকলের তালা ভেঙে যায়। গলার শিকল সমেত তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে বের হন। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে, কাঁটা ও পাথরে পা ক্ষতবিক্ষত হওয়া সত্ত্বেও তিনি থামেননি। খিলচিপুর থানায় পৌঁছে যখন তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন, তখন পুলিশের সদস্যরাও তাঁর শরীরের পোড়া দাগ ও আঘাতের চিহ্ন দেখে শিউরে ওঠেন।

নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সরদার সিং তনওয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। খিলচিপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল, ঘরের ভেতরেই কি নারীরা সবথেকে বেশি অনিরাপদ? আইনের শাসন কি আদৌ তাদের সুরক্ষা দিতে সক্ষম?