ধনতেরাস এবং দীপাবলির মাঝে, উত্তরপ্রদেশের মথুরা-বৃন্দাবনের বিখ্যাত বাঁকে বিহারী মন্দির বর্তমানে খবরের শিরোনামে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মন্দিরের গর্ভগৃহের সংলগ্ন অবস্থিত তোষাখানা বা রত্নভান্ডারটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খোলা হয়েছে। এই তোষাখানাটি সর্বশেষ খোলা হয়েছিল ১৯৭১ সালে।
তোষাখানায় যা যা পাওয়া গেল
সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে ঊনবিংশ শতকের এই মন্দিরের রত্নভান্ডারের দরজা ফের খোলা হয়। মন্দিরের পুরোহিত ও গোস্বামী সদস্য দীনেশ গোস্বামী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিবরণ দেন।
মাটির নীচের একটি লম্বা বাক্সের ভিতর থেকে একটি সোনার বাট (বিস্কুট) এবং তিনটি রুপোর বাট (বিস্কুট) পাওয়া গিয়েছে। বাটগুলি প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট লম্বা।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাটগুলিতে সিঁদুর (গুলাল) লাগানো রয়েছে। গোস্বামী সদস্য দীনেশ গোস্বামী ব্যাখ্যা করেন যে সম্ভবত এগুলি হোলি উদযাপনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।
এছাড়া, লাল এবং সবুজ রঙের কয়েকটি মূল্যবান রত্নপাথর, বেশ কিছু মূল্যবান মুদ্রা এবং বিভিন্ন ধাতুর তৈরি বাসনপত্রও পাওয়া গিয়েছে।
মন্দিরের একজন সদস্য জানান, চকচকে সোনার কাঠি, রত্ন এবং মূল্যবান পাত্র উদ্ধার হলেও সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও নথিপত্র পাওয়া যায়নি।
তোষাখানার রহস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
১৯৭১ সালের পর থেকেই রত্নভান্ডারের ভিতরে কী ছিল তা নিয়ে নানা গল্পগাথা ছড়িয়ে পড়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই বিতর্ক মেটাতে ২০২৫ সালের আগস্টে এলাহাবাদ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অশোক কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করে।
রবিবার দলটি দ্বিতীয়বার পরিদর্শন করে বেসমেন্টের ভিতরে গেলেও সেখানে আর কিছুই পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এক সদস্য। এই ঘটনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুরোনো এক রহস্যের কৌতূহল কিছুটা হলেও নিবারণ হলো।





