গভীর রাতে ট্যাংরায় ধুন্ধুমার, প্রাক্তন প্রেমিকের বাড়িতে বন্দুক নিয়ে চড়াও বাবা, গ্রেফতার

গভীর রাতে শহরের ট্যাংরা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল। মেয়ের প্রাক্তন প্রেমিককে অপহরণের চেষ্টা এবং বন্দুক দেখিয়ে হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, এন্টালির বাসিন্দা ভোলানাথ করের মেয়ের সঙ্গে ট্যাংরার শীল লেনের এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ যুবকের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সেই সম্পর্কে ছেদ টানেন যুবক। অভিযোগ, মেয়ের এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারেননি ভোলানাথ। সেই ক্ষোভ থেকেই মঙ্গলবার গভীর রাতে তিনি বন্দুক নিয়ে ওই যুবকের বাড়িতে চড়াও হন।
অপহরণের চেষ্টা ও বন্দুকের মুখে হুমকি
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ভোলানাথ কর গভীর রাতে জোর করে যুবকের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। যুবককে অপহরণ করার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। তখন যুবকের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যুবকের মা বাধা দিতে এলে তাঁর কপালেও বন্দুক ঠেকিয়ে খুনের হুমকি দেন অভিযুক্ত। এমনকি, রাস্তায় ধাওয়া করেও তাদের প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের তৎপরতায় আটক অভিযুক্ত
তবে অভিযুক্তের এই উন্মত্ত আচরণের সময় ট্যাংরা থানার পুলিশের নাইট পেট্রোলিং ভ্যান ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। টহলরত পুলিশকর্মীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযুক্ত ভোলানাথ করকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে এর আগেও বন্দুক দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
যুবকের চাঞ্চল্যকর বয়ান
আক্রান্ত যুবক পুলিশের কাছে জানান, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত অভিযুক্তের মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। এরপর তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় মেয়েটিই সম্পর্ক থেকে সরে আসে এবং তারপর থেকে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
যুবক আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন রাতে আচমকাই তার প্রাক্তন প্রেমিকার বাবা তাদের বাড়িতে আসেন। ভোলানাথ কর জানান, যুবককে কেন্দ্র করেই তার মেয়ের সঙ্গে বাড়িতে অশান্তি হচ্ছে। তিনি তখনই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন বলে দাবি করেন এবং জোর করে যুবককে নিজের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান। যুবক তাতে রাজি না হওয়ায় ভোলানাথ কর বন্দুক বের করে শাসানো শুরু করেন। যুবকের দাবি, অভিযুক্ত তখন তাকে বলেন, “নিজেই মরব, তোমাকেও নিয়ে মরব”। যুবকের মা বাধা দিতে এলে তাঁকেও শাসানো হয় এবং প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে তাদের বুকে ও কপালে বন্দুক ঠেকানো হয়। ঠিক সেই সময়েই পুলিশের গাড়ি চলে আসে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনা পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং তার ফলে সৃষ্ট চরম পরিণতিকে সামনে আনল। মধ্যরাতে এই ধরনের সন্ত্রাসী দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত এলাকাবাসী। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।