পঞ্চায়েত ভোটের আগে উত্তাপ বাড়ছে খিদিরপুরে। এবার সরাসরি ভোটারদের টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ তুললেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নিশানায় সরাসরি বিজেপি এবং তাঁর প্রাক্তন সেনাপতি তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা। মমতার সাফ দাবি, টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
টাকা ও ‘মিরজাফর’ বিতর্ক
এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা ভোটারদের প্রভাবিত করতে মোটা টাকা বিলি করছে। তিনি বলেন, “৫ হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলবে বিজেপিকে ভোট দাও। মনে রাখবেন, যারা টাকার কাছে বিক্রি হন, তাঁরাই হলেন আধুনিক যুগের মিরজাফর।” নেত্রীর এই বক্তব্যে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীর নাম না নিলেও ‘গদ্দার’ এবং ‘মিরজাফর’ সম্বোধনে তিনি যে কাউকেই রেয়াত করেননি, তা স্পষ্ট।
মমতার ভাষণের কড়া বার্তা:
প্রলোভন থেকে সাবধান: ভোটারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা সরকারি প্রকল্পের কথা ভুলে যেন কেউ বিজেপির সামান্য টাকার লোভে পা না দেন।
গদ্দার হুঙ্কার: নেত্রীর দাবি, যারা দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁদের মাধ্যমেই এই কালো টাকা বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ: মমতা সাফ জানিয়েছেন, মানুষ টাকা নিলেও ভোট দেওয়ার সময় নিজের উন্নয়নের নিরিখেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
“কোনও গদ্দারের তরফ থেকে টাকা যাবে। সেই টাকা দিয়ে আপনাদের বিবেক কেনার চেষ্টা হবে। কিন্তু মনে রাখবেন, বাংলার মানুষ বেইমান নয়।” — মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সরগরম ভোট রাজনীতি
মমতার এই মন্তব্যের পর পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপিও। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন ‘টাকা বিলি’র গল্প সাজাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে খিদিরপুরের এই সভা থেকে মমতার এই আক্রমণ যে নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মনে নতুন করে লড়াকু মেজাজ তৈরি করেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
টাকার খেলা বনাম উন্নয়নের লড়াই—আসন্ন নির্বাচনে শেষ হাসি কে হাসবে, সেটাই এখন দেখার।





