গণেশ চতুর্থীর রাতে ভুলেও আকাশের দিকে তাকাবেন না! কেন এই চরম অভিশাপ এড়িয়ে চলবেন?

গণেশ চতুর্থী মানেই এক মন ভালো করা উৎসবের মেজাজ এবং ঘরে ঘরে বিঘ্নহর্তা সিদ্ধিদাতার আরাধনার সোনালী সময়। সনাতন শাস্ত্র অনুসারে, যে কোনো শুভ কাজের সূচনায় সবার আগে তাঁর নাম স্মরণ করতে হয়, কারণ তিনি ভক্তদের সমস্ত বিপদ এক নিমেষে দূর করে দেন। ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের এই বিশেষ পবিত্র তিথিতে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশজুড়ে মহা সমারোহে পালিত হতে চলেছে গণেশ পুজো। তবে দেবশিল্পীর এই বিশেষ পুজো ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম ও কঠোর অনুশাসন। যার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দিন রাতে ভুলেও আকাশে চোখ তোলা একেবারেই মানা। সামান্য অসাবধানতাবশত চাঁদের দিকে তাকালেই নাকি জীবনে নেমে আসতে পারে ঘোর বিপদ এবং সমাজের চোখে জুটতে পারে মিথ্যা অপবাদ ও চরম অসম্মান।
পঞ্জিকার সঠিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাদ্র শুক্ল চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ৭টা বেজে ৬ মিনিটে। এই বিশেষ তিথি থাকবে পরের দিন অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা বেজে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্রবিদদের মতে, পার্বতীনন্দনের জন্ম হয়েছিল ঠিক দুপুরবেলার ক্ষণে। তাই সূর্যোদয়ের তিথি নয়, বরং তাঁর জন্মতিথির সঠিক সময় মেনেই আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মূল পুজো পালিত হবে।
ঘরে গণেশ ঠাকুরকে বসানোরও রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু বিধান। পুজোর নির্দিষ্ট স্থানটি সবার আগে ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। সেখানে একটি পরিষ্কার লাল রঙের আসন বা কাপড় পাততে হবে। সেই কাপড়ের ওপর নিয়ম মেনে গণেশের মূর্তি স্থাপন করতে হবে। পুজো শুরুর পর গণেশকে প্রথমে সিঁদুরের তিলক পরাতে হবে। তারপর একে একে নিবেদন করতে হবে চাল ও টাটকা ফুল।
এদিনের পুজোয় সবচেয়ে জরুরি উপাদান হলো দূর্বা ঘাস, যা গণেশের বড্ড প্রিয়। কয়েকটি দূর্বা একসঙ্গে নিয়ে সুতো দিয়ে বেঁধে ছোট ছোট আঁটি বানিয়ে তাঁর শ্রীচরণে অর্পণ করতে হবে। ভক্তিভরে মন্ত্রপাঠ ও আরতির পর নিবেদন করতে হবে ভোগ। সিদ্ধিদাতার পুজোয় মোদক ছাড়া তো ভোগ একেবারেই সম্পূর্ণ হয় না!
কিন্তু প্রশ্ন হলো, ভুল করেও কেন এই রাতে চাঁদ দেখা নিষিদ্ধ? এর পেছনে রয়েছে পৌরাণিক এক চমকপ্রদ গল্প। একবার চাঁদের নিজস্ব রূপ ও সৌন্দর্য নিয়ে প্রবল অহংকার জন্মেছিল। তিনি দেবাদিদেবের পুত্র গণেশের পেট ও ভারী শরীর দেখে উপহাস করে হেসে ওঠেন। এই ঘটনায় প্রচণ্ড রেগে যান গণেশ এবং তিনি চাঁদকে অভিশাপ দেন যে তাঁর এই রূপ সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, গণেশ চতুর্থীর রাতে যে কোনো মানুষ চাঁদের দিকে তাকাবে, তাকে বিনা দোষে সমাজে তীব্র মিথ্যা অপবাদ সইতে হবে।
পরে অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে চন্দ্রদেব ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তখন গণেশ তাঁর অভিশাপ কিছুটা শিথিল করে জানান যে চাঁদের ঔজ্জ্বল্য একেবারে মুছে যাবে না, বরং মাসের ১৫ দিন সে ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং বাকি ১৫ দিন স্বমহিমায় আলো ছড়াবে। তবে সেই থেকে ঐতিহাসিক নিয়ম হয়ে গিয়েছে যে চতুর্থীর রাতে চন্দ্রদর্শন একেবারে নিষিদ্ধ। তাই এই দিন মনপ্রাণ সঁপে ভক্তিভরে পুজো করুন, কিন্তু ভুলেও রাতের আকাশে চোখ রাখবেন না।