শত্রুতা ভুলে গ্যালারিতে এ কী করলেন পাকিস্তানি সমর্থক! ভারতের জাতীয় সংগীত গাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হতেই থ নেটিজেনরা!

শনিবার দুবাইয়ের মাটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আইসিসি মহিলা এশিয়া কাপে ভারত ও পাকিস্তানের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ম্যাচে ভারতীয় নারী দল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে মাত্র সাত উইকেটের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে এক অনায়াস ও দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে খেলার এই মাঠের পারফরম্যান্স ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ছাপিয়ে ম্যাচের একটি অত্যন্ত বিশেষ ও আবেগঘন মুহূর্ত দুই দেশেরই কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মন কেড়ে নিয়েছে, যা নিয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল চর্চা।

ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগে প্রথা অনুযায়ী যখন দুই দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই গ্যালারিতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। পাকিস্তানের অফিশিয়াল জার্সি গায়ে এক পাকিস্তানি সমর্থককে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ গাইতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই দৃশ্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, গ্যালারিতে উপস্থিত ওই পাকিস্তানি সমর্থকের নাম আরশাদ মহাম্মদ হানিফ। তিনি তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে এসেছিলেন। ম্যাচের আগে যখন ভারতের জাতীয় সংগীত বাজছিল, তখন আরশাদকে ভারতীয় সমর্থকদের পাশেই অত্যন্ত উদ্দীপনা ও সম্মানের সঙ্গে গলা মিলিয়ে ‘জন গণ মন’ গাইতে দেখা যায়। স্টেডিয়ামে উপস্থিত অন্য দর্শকরা এই বিরল ও সুন্দর মুহূর্তটি সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ক্যামেরাবন্দী করেন। পরবর্তীতে ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপলোড হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশের নেটিজেনরাই এই অসাম্প্রদায়িক ও বন্ধুত্বের মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, আরশাদ খান পাকিস্তানের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং নিয়মিত ক্রিকেট ভক্ত হিসেবে পরিচিত। তবে ভারতীয় দল ও ভক্তদের মন জয় করার এটিই তাঁর প্রথম ঘটনা নয়; এর আগেও তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিকবার ভারতীয় দলকে ভালোবেসে সমর্থন জানিয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন। খেলার মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক বৈরিতা দূরে সরিয়ে দুই দেশের মানুষের এই পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, খেলাধুলার আসল অর্থ সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করা।

অন্যদিকে, খেলার মাঠেও এদিন ভারতীয় দল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। দুবাইতে অনুষ্ঠিত এই মেগা ম্যাচে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি মহিলা দল ভারতীয় বোলিং আক্রমণের মুখে টিকতে পারেনি। তারা মাত্র আঠারো ওভার এক বলে মাত্র পঞ্চান্ন রান সংগ্রহ করেই সম্পূর্ণ অলআউট হয়ে যায়। দলের বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত ও বিধ্বংসী বোলিং প্রদর্শন করেন বোলার শ্রী চারণি। তিনি মাত্র সাত রান খরচ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট শিকার করেন এবং তাঁর এই নান্দনিক পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি ম্যাচসেরা বা ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার অর্জন করেন।

পাকিস্তানের দেওয়া ওই সামান্য ছাপ্পান্ন রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় টিম ইন্ডিয়া খুব একটা বেগ পায়নি। মাত্র তিন উইকেট হারাতেই নবম ওভারের মধ্যেই, অর্থাৎ বাহান্ন বল বাকি থাকতেই জয়ের প্রয়োজনীয় লক্ষ্যে অনায়াসে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া। ব্যাট হাতেও ভারতীয় ওপেনার ও ব্যাটাররা তাঁদের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেন। তবে ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে আরশাদ খানের এই সৌজন্যমূলক আচরণই এদিনের এশিয়া কাপের ময়দানকে ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখল।