বিয়ের বছর ঘোরেনি, এর মধ্যেই রণজয়-শ্যামৌপ্তির সংসারে ভাঙন! নতুন গুঞ্জনে তোলপাড় টলিপাড়া!

বিয়ের এক বছর কাটতে না কাটতেই টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি রণজয় বিষ্ণু এবং শ্যামৌপ্তি মুদলির সংসার জীবন নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, রণজয়ের বাড়ি থেকে নাকি বর্তমানে আলাদা থাকতে শুরু করেছেন শ্যামৌপ্তি। অন্যদিকে, ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘প্রতিজ্ঞা’-তে একসঙ্গে অভিনয় করছেন রণজয় বিষ্ণু ও অভিকা মালাকার। আর এই ধারাবাহিকের সেট থেকেই তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন এখন টলিপাড়ার হট টপিক। অতীতেও একাধিক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে এই অভিনেতার, যা নিয়ে চর্চাও কম হয়নি। তবে এই সমস্ত ব্যক্তিগত বিতর্ক এবং সম্পর্কের গুঞ্জন কি আদৌ তাঁর পেশাদার জীবনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে? কীভাবে এই কঠিন পরিস্থিতিগুলো সামলান তিনি? সম্প্রতি এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবিপি লাইভ বাংলার কাছে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা মুখ খুলেছেন অভিনেতা রণজয় বিষ্ণু।
সম্পর্ক ভাঙার গুঞ্জন এবং নেতিবাচক সমালোচনা প্রসঙ্গে রণজয় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধরুন একজন সরকারি কর্মচারী, তাঁর বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে নানা সমস্যা চলছে। মাসের শেষে সঠিক সময়ে ইএমআই দিতে পারছেন না, বাড়ির ভাড়াও বকেয়া পড়েছে। তবুও হাজারো মানসিক অশান্তি সত্ত্বেও তাঁকে প্রতিদিন অফিসে এসে নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়। সেটাই তাঁর পেশা ও কর্তব্য। আমার পেশার ধরণটা একটু আলাদা হলেও কাজের মূল ভিত্তিটা কিন্তু একই।” বিগত ১৭-১৮ বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিনেতা আরও জানান যে এখন এই সমস্ত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা কাজের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না—এমন কথা তিনি কখনই বলবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন। রণজয়ের কথায়, “আমিও তো রক্ত-মাংসের একজন মানুষ! তবে এই বয়সে এসে একটা জিনিস পরিষ্কার বুঝতে পারি যে, আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত চর্চা হয় কারণ আমি ক্যামেরার সামনে কাজ করি এবং খবরের শিরোনামে থাকি। যদি আমার সেই কাজটুকুই না থাকত, তাহলে এই চর্চা বা গুঞ্জনগুলোর কোনো অস্তিত্বই থাকত না।” অভিনেতার মতে, সমাজ বা বাইরের মানুষরা সবসময় নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, জীবনচর্চা এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ দিয়েই অন্যকে বিচার করার চেষ্টা করেন। সবার মনের দৃষ্টিভঙ্গি এক হয় না।
বাইরের মানুষের মন্তব্য বা ট্রোলিং তাঁকে কতটা আঘাত করে, সে বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রণজয় জানান, বাইরের বেনামী বা অচেনা মানুষেরা তাঁকে নিয়ে কী ভাবল বা কী চর্চা করল, তাতে তাঁর বিন্দুমাত্র কিছু আসে যায় না। বরং তাকে সবথেকে বেশি আঘাত দেয় এবং কষ্ট দেয় যখন তাঁর নিজের কোনো কাছের মানুষ তাঁকে ভুল বোঝেন বা তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। সবার কাছে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সাফাই গাওয়া বা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।