বারবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা আবারও প্রমাণ হল বীরভূমের ইলামবাজারে। মোবাইল চুরির অভিযোগে এক যুবককে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অমানবিক ঘটনা ঘটল রবিবার। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সমাজে গণপিটুনির মতো ব্যাধি কতটা গভীরে বাসা বেঁধেছে। পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার সকালে ইলামবাজারের খরুই গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মোবাইল চুরির অভিযোগ ওঠে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, মোবাইল চুরি করার সময় ওই যুবক হাতেনাতে ধরা পড়েন। এরপরই তাঁকে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, অভিযোগ ওঠে তাঁকে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং অনবরত চড়-থাপ্পড় মারা হয়।
জানা গিয়েছে, কিছু ‘অতি-উৎসাহী’ স্থানীয় মানুষ একটি সেলুন থেকে ট্রিমার এনে ওই যুবকের মাথার অর্ধেক অংশ ন্যাড়া করে দেন। এই বর্বরোচিত ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যুবককে উদ্ধার করে। তাঁকে প্রথমে ইলামবাজার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত যুবক স্থানীয় নন। তিনি কোথা থেকে এসেছেন এবং সত্যিই তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
তবে, আইন হাতে তুলে নিয়ে যুবককে মারধর ও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জনসাধারণের এই ধরনের প্রবণতা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে চিন্তার উদ্রেক ঘটিয়েছে। জেলা পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত চিন্তার। আমরা সবসময় সাধারণ মানুষকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার বার্তা দিচ্ছি, কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে মানুষ আইন নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছেন। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গণপিটুনি একটি সামাজিক ব্যাধি:
হিংসা কখনওই কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনই কাম্য নয়। কোনো গুজবে কান না দিয়ে অথবা কোনো ঘটনা ঘটলে সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ মানুষকে আবারও অনুরোধ করা হচ্ছে। মনে রাখবেন, সুরক্ষিত থাকা এবং সমাজকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।