বাংলায় দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গঠন করলেও, নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এবার রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে জয়ী হওয়ার পর এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আবহে, এক দীর্ঘ এক্স (টুইটার) পোস্টে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেনি, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের অন্তত ১০০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের জোরপূর্বক গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ গণনা প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল, যেখানে নিরপেক্ষতার লেশমাত্র ছিল না। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছে। অভিষেক লেখেন, “আমরা প্রতিটি বেআইনি কাজ এবং জালিয়াতিকে আমাদের হাতে থাকা সমস্ত সাংবিধানিক ও আইনি পথে চ্যালেঞ্জ জানাব। সুপ্রিম কোর্ট এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।”
নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব হয়ে অভিষেক অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষায় তৃণমূল কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর কেন্দ্র সুরক্ষার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে বাংলা ভয়াবহ হিংসার সাক্ষী হয়েছে। তৃণমূল কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। অভিষেকের দাবি, যখন তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা হচ্ছিল, তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী স্রেফ “নীরব দর্শক” হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। হিংসায় প্রাণ হারানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা বাংলার মহান ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘লড়াই জারি রাখার’ ডাক দিয়েছেন। তিনি তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীকে “লড়াকু সৈনিক” সম্বোধন করে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন যে, সত্যকে চিরকাল ধামাচাপা দিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বাংলার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি কর্মীদের শান্ত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করলেও, তৃণমূল যে ময়দান ছাড়তে নারাজ এবং প্রতিটি অনিয়মের হিসাব বুঝে নেবে, অভিষেকের এই বার্তা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।





