গণনার শুরুতেই কি বড়সড় চমক? ইভিএম খোলার ক্রমানুসারে তৃণমূলের বিশেষ চাল! পাল্টা হুঙ্কার বিজেপির

আগামীকাল রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণী ভোট গণনা। কিন্তু ফল ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এক নতুন সমীকরণ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, সংখ্যালঘু প্রধান অঞ্চলগুলোর ইভিএম আগে গণনার টেবিলে এনে বিরোধীদের শুরুতেই মানসিকভাবে হতোদ্যম করার কৌশল নিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এই দাবিকে স্রেফ গুঞ্জন বলে উড়িয়ে না দিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি।

তৃণমূলের ‘মনস্তাত্ত্বিক’ চাল? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণনা শুরুর প্রথম কয়েক রাউন্ডে যদি শাসক দল বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকে, তবে তা বিরোধী শিবিরের এজেন্ট ও কর্মীদের মনোবল কমিয়ে দিতে পারে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো সাধারণত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই বুথগুলোর গণনা আগে সম্পন্ন হলে প্রাথমিক ‘ট্রেন্ড’-এ তৃণমূল অনেকটা এগিয়ে থাকবে, যা জনমানসে এবং গণনা কেন্দ্রের ভেতর একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেবে।

পাল্টা মডেলে বিজেপি শাসক দলের এই সম্ভাব্য রণকৌশল নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক গেরুয়া শিবির। বিজেপির দাবি, গণনা কোন বুথ থেকে শুরু হবে এবং কোন ক্রমানুসারে এগোবে, তা পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলকে আগে এনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলে তাঁরা জোরালো প্রতিবাদ জানাবেন। গেরুয়া শিবিরের এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রথম দিকে ব্যবধান কম-বেশি হলেও যেন কেউ গণনা কেন্দ্র ছেড়ে না বেরোন। কারণ, শেষ হাসি কে হাসবে তা বোঝা যাবে শেষ রাউন্ডের পরেই।

কমিশনের কড়া নজরদারি তৃণমূলের এই ‘স্ট্র্যাটেজি’ নিয়ে জল্পনা বাড়লেও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, গণনার পদ্ধতি হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। র‍্যান্ডমাইজেশন বা লটারি পদ্ধতির মাধ্যমেও অনেক সময় রাউন্ড নির্ধারিত হয়। ফলে কোনও দলের পক্ষেই গণনার ক্রমকে নিজেদের ইচ্ছেমতো সাজানো কঠিন।

আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে এই মহারণ। প্রথম রাউন্ডের ফলাফলেই কি বাজিমাত করবে কেউ, নাকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই? প্রতিটি মুহূর্তের লাইভ আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পাতায়। আপনার কি মনে হয়? এই স্ট্র্যাটেজি কি সত্যিই কাজে আসবে? কমেন্টে জানান আমাদের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy