আগামীকাল রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হতে চলেছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। অতীতে গণনার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ইন্টারনেট সমস্যার কারণে কারচুপির যে সব অভিযোগ উঠত, এবার তা গোড়াতেই নির্মূল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার প্রযুক্তি এবং বিদ্যুৎ পরিষেবায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
অন্ধকার রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ গণনা চলাকালীন হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে যাতে ইভিএম বা তথ্য আদান-প্রদানে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে ডেডিকেটেড বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি কোনও কারণে মূল গ্রিড বিকল হয়, তবে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ দপ্তরকে ওই দিন নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই যেন গণনা কক্ষ অন্ধকারে ডুবে না যায়, তার জন্য অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ইন্টারনেট ও টেকনিক্যাল ব্যাকআপ ভোটের ফলাফল দ্রুত আপলোড করার জন্য এবং কমিশনের সার্ভারের সাথে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখতে হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইন্টারনেট বিভ্রাট রুখতে একটির বদলে একাধিক প্রোভাইডারের সংযোগ বা ‘ব্যাকআপ কানেকশন’ রাখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে তা কয়েক মিনিটের মধ্যে সারিয়ে তোলার জন্য দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের টিম প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে।
কারচুপি রুখতে সিসিটিভি ও নজরদারি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে গণনা কক্ষে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, তার জন্য প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরায় আলাদা পাওয়ার ব্যাকআপ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কারেন্ট চলে গেলেও সিসিটিভি রেকর্ডিং এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ হবে না। প্রতিটি মুহূর্তের ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা।
কমিশনের কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। লোডশেডিং বা প্রযুক্তিগত সমস্যার অজুহাত এবার আর চলবে না। পর্যাপ্ত জেনারেটর এবং টেকনিক্যাল ব্যাকআপ নিশ্চিত করার পরই প্রতিটি কেন্দ্রকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে এই মেগা লড়াইয়ের গণনা। অন্ধকার সরিয়ে আলোর পথেই কি প্রকাশিত হবে বাংলার নতুন রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ? প্রতিটি মুহূর্তের লাইভ ও দ্রুততম আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পাতায়।





