আগামীকাল সোমবার রাজ্যের ভাগ্য নির্ধারণ। তার কয়েক ঘণ্টা আগে এক নজিরবিহীন বার্তা দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। সাধারণত শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়িই দস্তুর, কিন্তু গণনার আগের রাতে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের ‘একজোট’ হয়ে ভোট লুঠ রুখতে ডাক দিলেন তিনি।
কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য? বিজেপির এই বর্ষীয়ান নেতার দাবি, ভোট লুঠ বা কারচুপি হলে কেবল বিরোধী দল নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র। তিনি তৃণমূলের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “ভোট লুঠ রুখতে একজোট হন।” তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে নিচুতলার কর্মীরা এমন কিছু কাজ করেন যা আদতে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে। তাই স্বচ্ছ গণনার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক কর্মীদেরই সতর্ক থাকা উচিত।
রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য শমীকের এই বার্তাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে তৃণমূলের ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে চাইলেন। গণনার সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ইভিএম কারচুপির ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে তৃণমূলের কর্মীদের নৈতিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
পাল্টা শাসক শিবিরের অবস্থান শমীকের এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, শাসক দলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি— পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এমন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কষছে বিজেপি। গণনার দিন গণ্ডগোল পাকানোর জন্য এটি একটি পরিকল্পিত বয়ান হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকেই শুরু হবে হাইভোল্টেজ গণনা। তার আগে শমীক ভট্টাচার্যের এই ‘একজোট’ হওয়ার আহ্বান গণনাকেন্দ্রে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার। রাজ্যের ২৯৩টি আসনে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আগামীকাল ইভিএম খুললেই স্পষ্ট হবে বাংলার রায়। প্রতিটি মুহূর্তের লাইভ আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পাতায়।





