পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ডায়মন্ড হারবারের ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সাক্ষী রইল রাজ্য রাজনীতি। ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা ঘিরে সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু এবারের কাউন্টিংয়ে যেন বড় কোনো চমকের অপেক্ষা ছিল না, বরং গণনার শুরু থেকেই শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যত অস্তিত্বহীন উপস্থিতি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফলতায় পুনর্নির্বাচনে প্রায় ৮৭.৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে আজ সকালে যখন গণনা শুরু হয়, তখন দেখা যায় বিজেপি এবং সিপিআইএম-এর কাউন্টিং এজেন্টরা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল শিবিরের কোনো এজেন্টের দেখা নেই। এমনকি প্রচারাভিযানের শেষ বেলায় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নাটকীয়ভাবে নিজেকে লড়াই থেকে সরিয়ে নিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে অভিহিত করা জাহাঙ্গির খানের এমন ইউ-টার্ন এবং ভোটের দিন থেকে গণনাকেন্দ্র পর্যন্ত তৃণমূলের অনুপস্থিতি এক বড় রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ইতিমধ্যেই নিজের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। গণনাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন, “এই জয় সুনিশ্চিত এবং ব্যবধান হবে প্রায় লক্ষাধিক ভোটের।” তবে জয়ের পূর্বাভাস পেলেও দেবাংশু দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে আজ কোনো প্রকার বিজয় মিছিল করা যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ‘ওয়াকওভার’ দেওয়া পরিস্থিতি বিজেপিকে একপ্রকার ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
যদি আজকের ফলাফলে বিজেপি জয়ী হয়, তবে তা রাজনৈতিক মহলে এক বড় অঘটন হিসেবে গণ্য হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় হিসেবে পরিচিত ফলতায় তৃণমূলের এই ভরাডুবি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে অনেকটাই বদলে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, ফলতা থেকে পদ্মশিবিরের জয়ের মার্জিন কতটা বড় হয়, তা দেখার জন্য।





