৪ মে, সোমবার। গোটা রাজ্যের নজর এখন ইভিএম-এর দিকে। এক মাস ব্যাপী শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পর এবার আসল অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু ভোটগণনা শুরু হওয়ার আগেই স্নায়ুর লড়াই তুঙ্গে পৌঁছেছে রাজ্যের দুই প্রধান শিবির তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। গণনাকেন্দ্রে বিন্দুমাত্র কারচুপি রুখতে এবং প্রতিটি ভোট সুরক্ষিত করতে এবার নজিরবিহীন সতর্কতা নিচ্ছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
কালীঘাটে হাইভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠক শনিবার বিকেল ৪টেয় তৃণমূলের প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, কাউন্টিং এজেন্ট এবং জেলা সভাপতিদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠকের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক থেকেই গণনার দিনের ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ স্থির করে দেওয়া হবে। ঠিক ৫ বছর আগে ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছিল, আর এবার ৪ মে-র ফলের আগে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির।
ট্যাবুলেশন শিটে কড়া নজরদারি তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে এজেন্টদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হতে পারে যে, ইভিএম-এ যে সংখ্যা দেখা যাচ্ছে, কম্পিউটারের ট্যাবুলেশন শিটে (Tabulation Sheet) ঠিক সেই সংখ্যাই নথিভুক্ত হচ্ছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখতে হবে। বিন্দুমাত্র অমিল দেখলেই যাতে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ জানানো হয়, সেই প্রশিক্ষণই দেওয়া হবে আজ।
তৃণমূলের গাইডলাইন: এক নজরে
টেবিল ছাড়া মানা: শেষ রাউন্ডের গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও এজেন্ট গণনা কেন্দ্র থেকে বেরোতে পারবেন না।
নেত্রীর নির্দেশ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সাংবাদিক বৈঠক না করা পর্যন্ত কাউন্টিং এজেন্টদের কেন্দ্রেই থাকতে হবে।
অভিযোগের পাহাড়: বারাসত-সহ একাধিক জায়গায় স্ট্রংরুমের সিসিটিভি বিকল থাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
বিরোধী তৎপরতা: পিছিয়ে নেই বিজেপিও। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে এজেন্টদের নিয়ে দফায় দফায় কর্মশালা করে তাঁদের সতর্ক থাকার পাঠ দিয়েছে পদ্ম শিবির।
স্ট্রংরুম নিয়ে উদ্বেগ ভবানীপুরের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের মতো স্পর্শকাতর স্ট্রংরুমগুলো খোদ মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজে পরিদর্শন করেছেন। শাসকদলের অভিযোগ, কিছু জায়গায় এজেন্টদের স্ট্রংরুমের বাইরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আজকের ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, সেটাই এখন দেখার।





