‘গণতন্ত্র দুর্বল করার চেষ্টা’! কেন কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের কাছে RTI আবেদন করলেন বিরোধী দলনেতা? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ‘এক্স’ (টুইটার) হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন, কলকাতা পৌর কর্পোরেশন (কেএমসি) নাকি বেআইনি ও অনৈতিকভাবে বিপুল সংখ্যক জন্ম সনদ (Birth Certificate) বিতরণ করছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, এই জন্ম সনদ প্রকৃত নাগরিকদের নয়, বরং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
“ভোটার তালিকা কারসাজির চেষ্টা” শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, “এটি ভোটার তালিকা কারসাজি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি স্পষ্ট প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি বলেন, জন্ম সনদ একটি আইনি নথি যা সাধারণত নবজাতকদের জন্য ইস্যু করা হয়। এটিকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জনসংখ্যার চিত্র পরিবর্তন করার চেষ্টা চলছে।
আরটিআই ও লিখিত দাবি: এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই কলকাতা পৌর কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে একটি আরটিআই (RTI) আবেদন দাখিল করেছেন। সেখানে তিনি গত ৩০ দিনে জারি করা সমস্ত জন্ম সনদের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। পাশাপাশি, কলকাতা পৌর কমিশনারের কাছেও লিখিতভাবে একাধিক তথ্য দাবি করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
মোট কতটি জন্ম সনদ জারি হয়েছে?
কলকাতা পৌরসীমার বাইরের অনাবাসীদের জন্য কতটি সনদ ইস্যু হয়েছে?
বিশেষ করে ২০০৭ সালের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বিলম্বে নিবন্ধনের ভিত্তিতে কতটি সনদ দেওয়া হয়েছে?
শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন উপেক্ষা করে কেএমসি যদি এমন “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধার্থে অপকর্ম” করে থাকে, তা সহ্য করা হবে না। তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO West Bengal) এই ঘটনার অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেছেন।