শুধু মহিলাদের নয়, পুরুষদেরও থাবা বসাচ্ছে ব্রেস্ট ক্যান্সার! এই ৫ লক্ষণ দেখলে এখনই সাবধান হোন

স্তন ক্যান্সার নামটি শোনামাত্রই আমাদের চোখের সামনে কেবল নারীদের ছবি ভেসে ওঠে। সমাজজুড়ে এমন একটি সাধারণ ভুল ধারণা শিকড় গেড়ে বসেছে যে, স্তন ক্যান্সার কেবল মহিলাদেরই হতে পারে এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে এই রোগের কোনো অস্তিত্বই নেই। অথচ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বিশ্বজুড়ে প্রখ্যাত অনকোলজিস্টদের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক নির্মম সত্য তুলে ধরেছে—স্তন ক্যান্সার শুধুমাত্র নারীর রোগ নয়, পুরুষদের শরীরও এই মারণ রোগের শিকার হতে পারে। যদিও পুরুষদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের হার মহিলাদের তুলনায় অনেক কম, তবুও পুরুষদের শরীরেও অল্প পরিমাণে স্তনের টিস্যু বা পেশী থাকে, যার ফলে সেখানেও মারাত্মক ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে। সচেতনতার অভাব এবং দেরিতে রোগ ধরা পড়ার কারণে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই মারণ রোগ প্রায়শই অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে।

পুরুষদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার প্রধান এবং সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো বুকের টিস্যুর নিচে বা স্তনের বোটার আশেপাশে কোনো ধরনের শক্ত, ব্যথাহীন পিণ্ড বা গিট্টি অনুভব করা। মহিলারা শরীরের এই পরিবর্তনের বিষয়ে শুরু থেকেই সচেতন থাকলেও পুরুষরা সাধারণত একে চর্বির জমাট বাঁধা অংশ বা সাধারণ ফোলা বলে ভুল করেন এবং সম্পূর্ণ অবহেলা করেন। এ ছাড়াও অন্য যে লক্ষণগুলো পুরুষদের মারাত্মকভাবে সতর্ক করা উচিত, তার মধ্যে রয়েছে স্তনের বোটা বা নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, নিপল থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল নির্গমন, বোটার চারপাশের চামড়ায় খোসার মতো লালচে আস্তরণ বা ঘা হওয়া এবং বগলের নিচের অংশে লিম্ফ নোড ফুলে গিয়ে তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হওয়া। এই উপসর্গগুলোর যেকোনো একটিও যদি কোনো পুরুষের শরীরে লক্ষ্য করা যায়, তবে কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন, পরিবারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের পূর্ব ইতিহাস, বয়স বৃদ্ধি, শরীরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোনের উপস্থিতি এবং মাত্রাতিরিক্ত ওজনের কারণে পুরুষদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং লিভারের সিরোসিসের মতো গুরুতর সমস্যাও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিকে ত্বরান্বিত করে। যেহেতু পুরুষদের স্তনকোষের পরিমাণ মহিলাদের তুলনায় অনেক কম থাকে, তাই ক্যান্সার কোষগুলো দ্রুত রক্তনালী ও আশেপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় না হলে তা পরবর্তীতে সারা শরীরে মেটাস্ট্যাসিস ঘটিয়ে জীবন সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই কোনো রকম সামাজিক ট্যাবু বা লজ্জা না রেখে বুকে সামান্য অস্বাভাবিকতা বা পরিবর্তন দেখলেই দ্রুত বায়োপসি এবং চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। সচেতনতাই পুরুষদের এই গোপন ও মারাত্মক মারণ রোগ থেকে জীবন বাঁচানোর একমাত্র নিশ্চিত উপায়।